পাঁচ মাসেও হয়নি চার কিমি সড়ক সংস্কার
শিবালয়ের উথলী-জাফরগঞ্জ সড়কের বাড়াদিয়া এলাকায় ৪ ইঞ্চির পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে ১ থেকে দেড় ইঞ্চি উঁচু খোয়া সমকাল
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৭:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
শিবালয়ের উথলী-জাফরগঞ্জ সড়কের সংস্কারকাজ পাঁচ মাসেও শেষ না হওয়ায় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ধীরগতিতে কাজ করায় আগামী ১৭ জুন মেয়াদ শেষের আগে সংস্কার সম্পন্ন হবে কিনা– শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, উথলী-জাফরগঞ্জ প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চার-পাঁচ বছর ধরেই এমন বেহাল সড়কে চলতে গিয়ে হাজারো যাত্রী ও কয়েকশ যানবাহন চালককে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী কয়েকবার মানববন্ধনও করেন। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলা প্রকৌশল অফিস ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করে।
বরাদ্দ মেলে মাত্র চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য। ওই সড়কের উথলী থেকে বীর বাসাইল পর্যন্ত সংস্কারে জন্য বরাদ্দ আসে চার কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজ পায় ঢাকার মতিঝিলের আহাদ বিল্ডার্স। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের কাজ শুরু করে। কিন্তু তারা প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা ভেঙে কাজ বন্ধ রেখে চলে যায়। এতে উপজেলা প্রকৌশল অফিস কয়েকবার নোটিশ দেয়। এর পরে গত এক সপ্তাহ ধরে তারা ফের কাজ শুরু করে। এই সময়ে এক কিলোমিটারেরও কাজ শেষ হয়নি। এদিকে, ১৭ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি দায়সারাভাবে ধীরগতিতে করছে। তারা সিডিউলও মানছে না।
উপজেলা যুবদল নেতা সুমন হোসেন বলেন, সড়কে চার ইঞ্চি উঁচু করে খোয়া দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। সড়কের বিভিন্ন স্থানে এক-দেড় ইঞ্চি উঁচু ও নিম্নমানের খোয়া ফেলে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঠিকাদার দায়সারাভাবে ও ধীরগতিতে কাজ করায় রাস্তার ধুলাবালুতে ঘরবাড়িতে থাকা যাচ্ছে না। এ সড়কে প্রতিদিন ছোট বড় আড়াইশ থেকে তিনশ যানবাহন চলাচল করে। সংস্কারকাজ বন্ধ রাখা ও ধীরগতিতে কাজ করায় হাজারো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে আহাদ বিল্ডার্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্মাণ সরঞ্জামের দাম বাড়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন আবার উথলী-বীর বাসাইল পর্যন্ত চার কিলোমিটারের কাজ শুরু করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংস্কার কাজ শেষ করার জন্য। শিডিউল অনুযায়ী খোয়া ফেলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় তিনবার নোটিশ দেওয়া হয়। আবার টেন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এক সপ্তাহ ধরে তারা কাজ শুরু করেছে। অনিয়ম করলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- সড়ক
