লেবাননে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক দিপালীর মরদেহ দেশে ফিরেছে
নিহত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী বেগম। ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ১৩:২১ | আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ | ১৩:৫৬
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী বেগম (৩৪)-এর মরদেহ দীর্ঘ এক মাস পর আজ শুক্রবার সকালে তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের শালেপুরে পৌঁছেছে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন, পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। সেখানে দিপালীর বাবা শেখ মুকা, বড় ভাই শেখ ওবায়দুল্লাহ এবং ছোট বোন লাইজু আক্তার মরদেহ গ্রহণ করেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে নেওয়া হয়। পরে ট্রলার ও ঘোড়ার গাড়িতে করে মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয় নিজ বাড়িতে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “কোনো কিছু দিয়েই দিপালীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সরকার পরিবারের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
তিনি আরও জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক জটিলতার কারণে মরদেহ দেশে আনতে সময় লেগেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ফ্লাইট সুবিধা নিশ্চিত করে মরদেহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে দিপালীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সাড়ে ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
দিপালীর ছোট বোন লাইজু আক্তার বলেন, “অনেক কষ্টের পর শেষবারের মতো বোনের মুখ দেখতে পেয়েছি, এটুকুই এখন সান্ত্বনা। ১৫ বছর আগে সে পরিবারের অভাব দূর করতে বিদেশে গিয়েছিল, কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে কখনো ভাবিনি।”
ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী জানান, দাফনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং পরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আরও ৩ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে দিপালী বেগম জীবিকার তাগিদে লেবাননে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে তিনি পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। গত ৮ এপ্রিল বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয়ে রফিক হারিরি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রায় এক মাস সময় লাগে।
- বিষয় :
- লেবানন
- বাংলাদেশি নিহত
- মরদেহ হস্তান্তর
