ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে রেখে উধাও স্বামী-স্বজন

গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে রেখে উধাও স্বামী-স্বজন
×

ছবি: সমকাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ১৬:৫১

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়ায় শিমু আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাসপাতালেই তার মরদেহ রেখে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে শিমু আক্তারকে নিয়ে আসেন তার স্বামী কুদ্দুস খান ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার কিছুক্ষণ পরই শিমুর স্বামী ও সঙ্গে থাকা লোকজন হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নড়িয়া থানাকে জানায়। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত শিমু আক্তার নড়িয়া পৌরসভার বাড়ৈপাড়া এলাকার বাসিন্দা কুদ্দুস খানের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি ঢাকায় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুরজ্ঞিত দাস মুঠোফোনে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি এক নারীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদেহটি জরুরি বিভাগে রেখেই সেখান থেকে চলে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নড়িয়া থানাকে অবহিত করে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, বিষয়টির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকেই নিহত নারীর স্বামী ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নারীর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

আরও পড়ুন

×