অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় মারধর, অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি
সংগৃহীত
চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ১৯:২৮
ভোলার চরফ্যাসনের শশীভূষণে অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর দু-দফা হামলা, মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বখাটে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর ওই গৃহবধূ ও তাঁর তিন শিশুসন্তানকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ২৯ এপ্রিল শশীভূষণ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে বলে জানিয়েছেন ওই গৃহবধূ। শুক্রবার চরফ্যাসন প্রেস ক্লাবে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তাঁর প্রবাসী স্বামী।
অভিযোগে গৃহবধূ জানান, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে রসুলপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। সেখানে বসবাস শুরু করার পর প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে পরিচয় হয়। হেলাল নানা অজুহাতে তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে এবং পরে গৃহবধূকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকে।
গৃহবধূ বলেন, ‘হেলাল উদ্দিন আমার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে দিন-রাত ফোন দিয়ে বিরক্ত করত। আমি একাধিকবার নিষেধ করার পরও থামেনি। পরে বিষয়টি স্বামীকে জানাই।’
তাঁর অভিযোগ, গত ২৭ এপ্রিল তাঁর স্বামী হেলালকে ডেকে সতর্ক করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে শুরু করে। বিষয়টি হেলালের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে লোকজন নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। তারা গৃহবধূকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে স্বামীর হাত ইট দিয়ে থেঁতলে দেয়। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গৃহবধূ আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও হেলাল ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়ি ঘিরে রাখে এবং প্রকাশ্যে অ্যাসিড নিক্ষেপ ও হত্যার হুমকি দেয়। এতে তাঁর তিন শিশুসন্তানের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে। তারা ১২ দিন ধরে আতঙ্কে ও অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে। সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে। দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। শশীভূষণ থানার ওসি ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী গৃহবধূর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
