ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র 

প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন সম্পন্ন 

প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন সম্পন্ন 
×

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ২০:৪৮

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরবরাহ ও স্থাপন সম্পন্ন করেছে রোসাটম। গতকাল শুক্রবার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হলো। 

এর আগে ২৮ এপ্রিল থেকে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু করার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করে। আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার পথ আরও সুগম হলো। 

রোসাটমের অটোমেশন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ (রাসু) এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটি সরবরাহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ইউনিটের জন্য স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ ২২টি সাব-সিস্টেম স্থাপন করেছে। 

এই সিস্টেমের প্রধান কাজ হবে বিদ্যুৎ ইউনিটের কমিশনিং এবং নিয়মিত পরিচালনাকালে যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার রেডিয়েশন মনিটরিং এবং সার্বিক প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

রোসাটমের অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্লেব মুরাশভ বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বিশেষত্ব বিবেচনা করে এই সিস্টেমে বেশ কিছু উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আমরা এখানে কমপ্যাক্ট বেঞ্চ-টাইপ নকশা ব্যবহার করেছি। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সরবরাহ ও কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। 

রাশিয়ার প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে মোট দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রটির সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। তৃতীয় প্লাস প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর নকশাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এই প্রযুক্তির ছয়টি ইউনিট রাশিয়া ও বেলারুশে চালু রয়েছে। এ ছাড়া মিসর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনে একই প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। 

ফুয়েল লোডিং এবং আনুষঙ্গিক পরীক্ষা শেষে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়ের শেষ দিকে বা আগস্টে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

আরও পড়ুন

×