অটোরিকশায় চাঁদাবাজি স্থায়ীভাবে বন্ধ চান চালকেরা
বরগুনার আমতলী
বরগুনার আমতলীতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। ছবি: সমকাল
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ১৭:৪৪ | আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ | ১৭:৪৪
বরগুনার আমতলীতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। শনিবার সকালে স্থানীয় ডাকবাংলোর হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি তোলেন তারা। এ সময় স্থানীয় শ্রমিক দলের কিছু নেতাকে চাঁদাবাজির জন্য দায়ী করে স্থায়ীভাবে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া অটোরিকশা চালক মো. ইউনুছের দেওয়া তথ্যমতে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহেন্দ্রা চালকদের কাছ থেকে একটি চক্র চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। এসব বিষয়ে ২ মার্চ চালকদের নিয়ে বৈঠক করেন বরগুনা-১ (সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ। সেখানে আমতলীর ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী, থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির, সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহেন্দ্রা স্ট্যান্ডকে চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন আমতলী পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মিল্টন হাওলাদার।
লিখিত বক্তব্য অপর চালক মো. আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শ্রমিক দলের নেতা মো. মিল্টন হাওলাদার চালকদের মারধর ও অটোরিকশা চালানো বন্ধের হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় শুরু করেন। তিনি শতাধিক চালকের কাছ থেকে মাসে তিন হাজার করে তিন লাখ টাকা ও লাইন খরচ বাবদ দৈনিক প্রতি অটোরিকশা ২০ টাকা করে ৬০ হাজার টাকা আদায় করছিলেন।
আমিরুল ইসলাম জানান, গত ৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিনে মিল্টন হাওলাদার ও তাঁর সহযোগী লাইন পরিচালনাকারী মো. সুমনকে নিয়ে নতুন বাজার চৌরাস্তা সিএনজি স্ট্যান্ডে বসে চালকদের কাছে চাঁদা আদায় করছিলেন। সংবাদ পেয়ে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির সেখানে যান। তিনি চাঁদা আদায়ের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক আমতলী থানায় খবর দেন। পুলিশ মিল্টন হাওলাদার ও সুমনকে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়ায় সেদিন রাতেই দুজনের বিরুদ্ধে পুলিশ চাঁদাবাজির মামলা করে। এতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনার জেরে আমতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম সোহাগ শ্রমিক লীগের নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম মনজুকে নিয়ে ৭ মে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন ও মিথ্যা অপবাদ দেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন আমতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম সোহাগ। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করি নাই বা কোনো ধরনের অপপ্রচার করি নাই।’ তিনি দাবি করেন, মিল্টনের বিরুদ্ধে তোলা চাঁদাবাজির অভিযোগ সঠিক নয়।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ বলেন, এখন সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা মাহেন্দ্রা স্টান্ডে কোনোরকম চাঁদাবাজি হচ্ছে না। কোথাও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- বরগুনা
