যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৮ কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
যশোর অফিস
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২০ | ০৭:৫৪ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২০ | ০৯:৫৪
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্যাতনে তিন কিশোর নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় আটক আট কিশোর বন্দিকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে গিয়ে। বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানি শেষে যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ টি এম মুসা এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁচড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক রোকিবুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনি আসামিদের পুলিশ হেফাজতে সাতদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও ব্লাস্ট যশোরের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মোস্তফা হুমায়ূন কবীর অংশ নেন। আর আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কাজী রেফাত রেজওয়ান সেতু।
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ওই আট কিশোর হলো- গাইবান্ধার খালিদুর রহমান তুহিন, নাটোরের হুমাইদ হোসেন ও মোহাম্মদ আলী, পাবনার ইমরান হোসেন ও মনোয়ার হোসেন, রাজশাহীর পলাশ ওরফে শিমুল ওরফে পলান, কুড়িগ্রামের রিফাত আহমেদ ও চুয়াডাঙ্গার আনিছুজ্জামান।
গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোর বন্দিদের বেধড়ক মারপিট করা হলে তিন কিশোর নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ১৪ আগস্ট রাতে নিহত কিশোর পারভেজ হাসান রাব্বির বাবা রোকা মিয়া যশোর কোতয়ালী থানায় হত্যামামলা করেন। মামলায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে আসামি করা হয়।
পুলিশ এ মামলায় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করে। শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসান কেন্দ্র তত্ত্ববধায়ক (সহকারী পরিচালক) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী তত্ত্ববধায়ক (প্রবেশন অফিসার) মাসুম বিল্লাহ ও ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর একেএম শাহানুর আলমকে পাঁচদিনের এবং সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মো. মুশফিকুর রহমান ও কারিগরি প্রশিক্ষক (ওয়েল্ডিং) ওমর ফারুককে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার মুশফিকুর রহমান এবং ওমর ফারুকের রিমান্ড শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার দু'জনকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান।
