শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে হামলা, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা
রংপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা আহ্বানের দাবিতে চলা কর্মবিরতিতে হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ২০:৪৮
রংপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা আহ্বানের দাবিতে আজ সোমবার পালিত শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এতে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রংপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক হন তাজুল ইসলাম হারুন চৌধুরী। দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘদিনেও তিনি সাধারণ সভা আহবান না করায় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছিলেন।
শ্রমিক নেতা আসাদুজ্জামান বাবু অভিযোগ করেন, সাধারণ শ্রমিকরা ইউনিয়নের নির্বাচিত প্রতিনিধি চান। কিন্তু তাজুল ইসলাম হারুন চৌধুরী সাধারণ সভা না ডেকে কালক্ষেপণ করে পদ আঁকড়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করছিলেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে তাজুল ইসলাম হারুন চৌধুরীর লোকজন আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এর প্রতিবাদেই শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।’
পরে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হাবিবুন নবী ডন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেয়ে শ্রমিকরা অবরোধসহ সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
শ্রমিকরা জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনার কারণে রংপুরের জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে গত ২ মে সাধারণ সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে ৩ মে মানববন্ধন করে সাধারণ সভা আহ্বানের দাবিতে ১০ দিনের আলটিমেটাম দেন শ্রমিকরা।
অভিযোগের বিষয়ে রংপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম হারুন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাঁকে আহ্বায়ক নির্বাচন করা হয়েছে।
তিনি জানান, শ্রম অধিদপ্তর সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত করলে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাধারণ সভা আহবান করা হলেও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শ্রম অধিদপ্তর সভা করতে নিষেধ করে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ সভা আহবান না করার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ তাঁর নেই।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করা অনুচিত। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পর শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিয়েছেন।’
- বিষয় :
- রংপুর
