চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবারও থাকছে না ম্যাংগো ক্যালেন্ডার
বাজারে মিলবে পরিপক্ব হলেই
ছবি : সমকাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ও নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৫:৪৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ বছরও থাকছে না ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’। পরিপক্ব হলেই বাজারজাত করা যাবে এ জেলার আম। নওঁগা, রাজশাহীসহ অন্যান্য জেলায় ম্যাংগো ক্যালেন্ডার প্রণয়ন হলেও চাষিসহ সংশ্লিষ্টদের দাবির প্রেক্ষিতে এ জেলার আম পাড়ার কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
আম চাষিদের সম্মতিতে সভায় জানানো হয়, গাছে আম পাকলেই বাজারে বিক্রি করা যাবে। আম পাড়ার জন্য কোনো ক্যালেন্ডার থাকছে না। আম চাষিদের সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অপরিপক্ব আম বাজারে বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ছাড়া সভায় আমের ওজন নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা জানানো হয়।
পাশাপাশি আম পরিবহনের জন্য ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের পরিবর্তে আন্তঃনগর বনলতার সঙ্গে একটি বগি সংযুক্ত করার কথাও জানানো হয়। এ ছাড়া আম পরিবহনে ডাক বিভাগকে সক্রিয় এবং কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয় সভায়।
এবার আম সংগ্রহে ম্যাংগো ক্যালেন্ডার না থাকার কথা জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন চাষিরা।
নাচোলের চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় একসঙ্গে আম পাকে না। বরেন্দ্র এলাকায় যে সময় আম পাকে শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় তাঁর অন্তত ১০ দিন পর পাকে। ম্যাংগো ক্যালেন্ডার না থাকায় এ জটিলতা থাকবে না।
শিবগঞ্জের আমচাষি আব্দুল মান্নান বলেন, শিবগঞ্জের আমচাষিরা সব সময় দেরিতে আম ভাঙেন। বেশি দামের আশায় এই কাজ করে থাকে। ম্যাংগো ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করলে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন আম চাষিরা।
জেলায় এবার সাড়ে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গেল বছর ছিল প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন।
নাটোরের আম বাজারে আসছে ১৫ মে
এবার নাটোরের আমের মৌসুম শুরু হচ্ছে ১৫ মে আর লিচুর ১৭ মে। গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় চলতি বছরের ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ বা আম সংগ্রহের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ১৫ মে গুটি আম নামানোর মধ্যদিয়ে শুরু হবে আম সংগ্রহের মৌসুম। এরপর ২৫ মে থেকে গোপালভোগ, ৩০ মে থেকে রাণীপছন্দ ও ক্ষিরসাপাত, ৫ জুন থেকে লক্ষ্মণভোগ, ১৫ জুন থেকে ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন থেকে মোহনভোগ ও হাঁড়িভাঙা, ৩০ জুন থেকে ফজলি, ৫ জুলাই থেকে মল্লিকা, ১৫ জুলাই থেকে বারি-৪, ২০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট থেকে গৌরমতি আম বাজারজাত করা যাবে।
এদিকে, ১৭ মে থেকে মোজাফফর জাতের এবং ২৫ মে থেকে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু আহরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, গাছ থেকে ফল সংগ্রহ, বিপণন ও পরিবহনের সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিরসন করে ক্রেতা পর্যায়ে নিরাপদ ফল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বাগানে কেমিক্যাল মুক্ত ফল প্রাপ্তিতে প্রশাসনিক নজরদারিও অব্যাহত থাকবে। তারপরও নির্ধারিত সময়ের আগে আম নামিয়ে বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- আম
