মোংলায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ওপর হামলা, মামলা নিতে গড়িমসি
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৮:১৭ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ | ১০:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাগেরহাটের মোংলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের ওপর একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৮ মে রাতে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষক পরদিন থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা রেকর্ডে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম রিয়াজুল ইসলাম (৪৭)। তিনি মোংলা পৌর শহরের ইসলামপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় মালগাজী কোরবান আলী দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক।
অভিযোগে বলা হয়, বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় দক্ষিণ মালগাজী এলাকার খালিদ মাহমুদ সোহাগ (৪৫) জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে রিয়াজুল ইসলামের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গত ৮ মে রাত ৮টার দিকে শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম এলাকার রশিদ তালুকদারের চায়ের দোকানের সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় খালিদ মাহমুদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী পূর্বপরিকল্পিতভাবে রড, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর পথরোধ করে। পরে সন্ত্রাসীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। কিল-ঘুষি ও লাঠির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে খালিদ মাহমুদ ওই শিক্ষকের পাঞ্জাবির পকেট থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাঁকে সাত দিনের মধ্যে দাবীকৃত বাকি টাকা পরিশোধ না করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আহত শিক্ষকের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আহত মাদ্রাসা শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত খালিদ মাহমুদ সোহাগ বলেন, ওই শিক্ষক তাঁর প্রতিবেশীর কিছু জায়গা জবরদখল করে রেখেছেন। ভুক্তভোগী তাঁকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেন। এ কারণে তিনি রিয়াজুল ইসলামকে জায়গা দখলের বিষয়টি জিজ্ঞেস করেন। এতে তিনি উত্তেজিত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন। এ সময় কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনা এতটুকু। হামলা, মারধর ও চাঁদাবাজির কোনে ঘটনা না ঘটলেও এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে পুলিশের মোংলা সার্কেলের এএসপি মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, থানায় জমা দেওয়া অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ওসিকে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- মামলা
- মাদ্রাসা শিক্ষক
- হামলা
- মোংলা
