ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্কুলে হঠাৎ অসুস্থ শতাধিক ছাত্রী, আতঙ্ক

 ‘বিষাক্ত গ্যাস’ নাকি ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’— কারণ খুঁজছে প্রশাসন

স্কুলে হঠাৎ অসুস্থ শতাধিক ছাত্রী, আতঙ্ক
×

সংগৃহীত

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ২১:১৪

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ জ্ঞান হারিয়ে শ্রেণিকক্ষে লুটিয়ে পড়ে, কেউ শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি ও বমিতে আক্রান্ত হয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় অসুস্থ ছাত্রীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে উপজেলার মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ শিক্ষার্থী সবাই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার পর স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক অভিভাবক ছুটে যান বিদ্যালয় ও হাসপাতালে। পরে চিকিৎসা নিয়ে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক শফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে স্কুলের তৃতীয় তলায় অবস্থিত কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ তিন-চার ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন প্রচণ্ড গরমের পর হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। প্রথমে কয়েকজন অসুস্থ হলেও পরে একে একে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘কেউ শ্বাস নিতে পারছিল না, কারও খিঁচুনি হচ্ছিল। মুহূর্তেই পুরো স্কুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসনা রানী জানান, ষষ্ঠ শ্রেণির একটি কক্ষের বেঞ্চের নিচে একটি উকুননাশক স্প্রের খোলা বোতল পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো শিক্ষার্থী সেটি স্কুলে নিয়ে এসেছিল। বোতল থেকে নির্গত গন্ধ বা রাসায়নিকের প্রভাবে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে।

কয়েক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী একটি ছোট কৌটা হাতে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢোকার সময় সেটি হাত থেকে পড়ে ভেঙে যায়। এর পর থেকেই কয়েকজনের মাথা ঘোরা শুরু হয়। একে একে অন্য ছাত্রীরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিদ্যালয়ে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। প্রায় ৬৫ ছাত্রীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. কাবেরী সাহা বলেন, ‘হঠাৎ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। অধিকাংশের মধ্যে আতঙ্কজনিত লক্ষণ দেখা গেছে। কয়েকজনের অবস্থা কিছুটা গুরুতর হলেও তারা শঙ্কামুক্ত। এটি ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’ হতে পারে।’ তিনি জানান, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ম্যাস হিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপে একসঙ্গে অনেক মানুষের মধ্যে একই ধরনের শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়।

ঘটনার পর হাসপাতালে ছাত্রীদের দেখতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমানসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসকরা এটিকে ম্যাস হিস্টিরিয়া বলছেন। তবে কীটনাশকের বোতল কোথা থেকে এলো, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।’

তিনি আরও জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

আরও পড়ুন

×