ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খুলনা ছাত্রদল আহ্বায়কের মদ্যপ ভিডিও ভাইরাল—রাতে কমিটি, দুপুরে অব্যাহতি

খুলনা ছাত্রদল আহ্বায়কের মদ্যপ ভিডিও ভাইরাল—রাতে কমিটি, দুপুরে অব্যাহতি
×

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৪:০৬

খুলনায় ছাত্রদলের কমিটি ঘিরে নানা নাটকীয়তা ঘটছে। গত মঙ্গলবার রাতে কমিটি ঘোষণার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পদবঞ্চিত অন্যরা নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে কমিটি বাতিলের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যদিকে কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে নগরীতে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রদলের আরেক অংশ।

গত ১২ মে রাতে ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক এবং খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্যসচিব করে খুলনা জেলা ছাত্রদলের ৩০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সময় তাজিম বিশ্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে ৪৩ সদস্যের মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

কমিটি ঘোষণার পর রাত থেকেই সামাজিকমাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ শুরু করেন পদবঞ্চিত এবং অপেক্ষাকৃত নিচের পদ পাওয়া নেতারা। কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়া আবু জাফর তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘পদত্যাগ, ১৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানলাম। এই মুহূর্ত থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পদ থেকে থেকে নিজেকে মুক্ত করলাম। সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাবো।’

সদস্য পদ পাওয়া ইয়ামিন শেখ লিখেন, ‘এতো বড় পদের ভার নেওয়ার সামর্থ্য আমার হয়নি। সকালে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় দপ্তরে পৌঁছে যাবে।’

মহানগর ছাত্রদলে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়া রাজিবুল ইসলাম বাপ্পী লেখেন, ‘বিদায় প্রাণের সংগঠন ছাত্রদল।’ আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম রাসেল লেখেন, ‘আই কোয়াইট (আমি ছাড়ছি)।’ জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান খানসহ আরও ৩ জন লেখেন, ‘ত্যাগীদের চোখের পানিতে আপনারা ধ্বংস হবেন।’

বুধবার সকাল থেকে কমিটির আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে মদ্যপ অবস্থায় অশালীন ভাষায় মানুষকে হুমকি দিতে দেখা যায়।

অবশ্য ফিরোজ আহমেদের প্রকাশিত ভিডিওটি একটি অভিনয়ের অংশ বলে দাবি করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি অভিনয় করতে পছন্দ করি। অভিনয়ের অসংখ্য ভিডিও আমার ফেসবুকে রয়েছে। মাতালের ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। ডোপ টেস্ট করলে প্রমাণ হবে মাদকের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

কমিটি প্রত্যাখান করে বুধবার দুপুর ৩টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আবু জাফরসহ অন্য নেতারা। তারা আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদের ভিডিও সাংবাদিকদের দেখান এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে পদত্যাগের ঘোষণা দিবেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগেই কেন্দ্র থেকে ফিরোজকে অব্যাহতি দেওয়া এবং আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ার চিঠি আসে। সবাই আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে করতে বের হয়ে যান। কিছু সময়ের মধ্যে পদবঞ্চিত অন্যরা সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন। তখন আবু জাফর তাদের বুঝিয়ে নিতে চাইলেও কেউ রাজি হননি।

খুলনা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান, সদস্য ইয়ামিন শেখ, সদস্য অনিক আহমেদ, খালিদ ওয়ালিদ ও সদস্য আবু সাঈদ বলেন, ‘এই কমিটির অধিকাংশ যুগ্ম আহ্বায়ক অপরিচিত এবং বিতর্কিত জেলা ছাত্রদলের কমিটি আমরা প্রত্যাখান করছি এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে বাতিল ও পরীক্ষিতদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন না করলে গণপদত্যাগসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আশিকুর রহমান অনি, বটিয়াঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাকিল হোসাইন, সদস্য সচিব মোল্লা সাইফুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×