কওমি মাদ্রাসাগুলো এবার চামড়া নেবে না
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে এবার সুনামগঞ্জের কওমি মাদ্রাসাগুলো কোরবানির চামড়া সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে। মাদ্রাসাগুলো যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে সিলেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একই ঘোষণা দিয়েছে সেখানকার বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা। লাগাতার কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এতে জেলায় চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত আলোচনা করে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া শিল্প। এর অধিকাংশ আসে কোরবানির পশু থেকে। আর এসব চামড়া সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দেশের কওমি মাদ্রাসা। সুনামগঞ্জে রয়েছে চার শতাধিক কওমি মাদ্রাসা। প্রতিবছর এসব মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে। সেই চামড়া বিক্রির অর্থ জমা হয় মাদ্রাসার দরিদ্র তহবিলে। এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৫৩ হাজার ৪০১টি গরু। তবে বছরের পর বছর চামড়ার কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় এবার কোনো মাদ্রাসাই চামড়া সংগ্রহে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতে পরিবহন ও শ্রমিক বাবদ বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়। এসব ব্যয় মাদ্রাসার দরিদ্র তহবিল থেকেই বহন করতে হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
সুনামগঞ্জ শহরের মাদানিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা মোস্তফা কামাল বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর যাবৎ মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। দেশবাসী জানেন, প্রতিবছর কোরবানির সময় মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক মিলে কোরবানির চামড়া ফান্ডের জন্য সংগ্রহ করে থাকেন। গত পাঁচ-সাত বছর এলাকার মানুষ মাদ্রাসার গরিব ফান্ডের জন্য তাদের কোরবানির পশুর চামড়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে গেছেন। সেগুলো সংগ্রহ করা থেকে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত যে খরচ, তা চামড়া থেকে তোলা কঠিন। দিন শেষে চামড়ার ক্রেতা পাওয়া যায় না বা কম দামে বিক্রি করতে হয়।
একই মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মনসুর আহমদ বলেন, সুনামগঞ্জের ওলামায়ে কেরাম এবং মাদ্রাসার পরিচালকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ বছর কোরবানির চামড়া কালেকশন করা হবে না। যথাযথ মূল্য না পাওয়ার কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া। অনেক সময় দেখা যায়, সরকার একটা মূল্য নির্ধারণ করে দেয়; কিন্তু পাইকাররা সেই মূল্য দেয় না।
আরেক শিক্ষক মাওলানা রিয়াজউদ্দিন বলেন, সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, বিক্রির সময় তা পাওয়া যায় না। দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সেটি একদম পানির মূল্যে নিতে চায়। গরিব ফান্ডের আয়ের একটি উৎস কোরবানির চামড়া জনগণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। কিন্তু সেটি বর্তমানে কাজে আসছে না।
মাদানিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল বছির বলেন, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল যারা কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন, সবাই মিলে বৈঠক করেছেন। তারাও ঐকমত্য পোষণ করেন– এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হবে না। সরকার যে দর নির্ধারণ করে দেয়, ব্যবসায়ীরা তা দেয় না।
মাদ্রাসাগুলোর এমন সিদ্ধান্তে এবার জেলায় কোরবানির চামড়া সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখনও সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা আসেনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরও বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানার মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর পর বিভিন্ন ব্যবসায়ী এখান থেকে চামড়া ক্রয় করেছিল।
- বিষয় :
- চামড়া খাত
