ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

জার্মানিতে রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক যাত্রা নিয়ে সঞ্চিতা পালের ‘স্মৃতির পথ ধরে’

জার্মানিতে রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক যাত্রা নিয়ে সঞ্চিতা পালের ‘স্মৃতির পথ ধরে’
×

ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ২১:১১ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ২১:২৭

জার্মান সংস্থা গ্যোটে-ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংগীত, কবিতা ও ভ্রমণ ইতিহাস নিয়ে এক বিশেষ সন্ধ্যা। শনিবার সন্ধ্যায় এ অনুষ্ঠানে গান–কবিতায় ও ধারা বর্ণনায় তুলে ধরা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে জার্মানির দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর সম্পর্ক।

রবীন্দ্রনাথের জার্মানি সফর ও সেসব সফরে রচিত গানগুলো নিয়ে সাজানো সংগীতায়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সঞ্চিতা পাল। তাঁর কণ্ঠে দর্শক-শ্রোতারা উপভোগ করেন জার্মানির সঙ্গে সম্পর্কিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্বাচিত গান।

রবীন্দ্রসংগীতের বাংলা গানের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষ্যে তুলে ধরা হয় এসব গানের পটভূমি। ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে রবীন্দ্রভারতী থেকে রবীন্দ্রসংগীত উচ্চতর ডিগ্রিধারী সঞ্চিতা পাল তার পরিবেশিত গানগুলো বাছাই করেছেন কবিগুরুর জার্মানির সফরের ঐতিহাতিক পটভূমিকে মাথায় রেখে। 

রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি এই আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল গ্যোটে-ইনস্টিটিউট  বাংলাদেশের পরিচালক ফ্রঙ্ক ভারনারের পরিবেশনা। তিনি গীতাঞ্জলি থেকে একটি কবিতার জার্মান অনুবৃত্তি পাঠ করেন।


 
অনুষ্ঠানে গ্যোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব জার্মানিতে ছিল সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক দশক জুড়ে তিনি সেখানকার প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও বিদ্বজ্জনের সঙ্গে বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথের রচিত গানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ এসব গান রচনার শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে এ বছর।

বাংলা ও জার্মান সংস্কৃতির পারস্পরিক বিনিময়কে উদ্‌যাপন ও দর্শক–শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরতে এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল দর্শন ও সাহিত্যের এক অনন্য বঙ্গ-জার্মান সংলাপ।

সন্ধ্যা পৌনে ৭ টায় শুরু হওয়া এই আয়োজন চলে দুই ঘণ্টাব্যাপী। হলভর্তি কয়েক’শ দর্শক–শ্রোতা পুরো এই আয়োজন উপভোগ করেন। গান, কবিতার পাশাপাশি ধারা বর্ণনায় তারা ফেরে শতবর্ষ আগে রবীন্দ্রনাথের জার্মান ভ্রমণকালে। শিল্পীর পরিবেশনা শুরু হয় ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’ গান দিয়ে। পরপর দশটি গান পরিবেশন করেন শিল্পী। গানের পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন স্থপতি ধ্রুব জ্যোতি।

সঞ্চিতা পাল এ সময়ের জনপ্রিয় ও সমকালীন রবীন্দ্রসংগীতের একজন বিশিষ্ট শিল্পী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে ভারত সরকারের বৃত্তি লাভ করে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১২ সালে বাংলাদেশে ফিরে তিনি ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং একই সঙ্গে পেশাদার শিল্পী হিসেবে সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। সম্প্রতি তার প্রযোজনা ‘যাত্রাপথের আনন্দগান’ ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে মঞ্চস্থ হয়।

আরও পড়ুন

×