পরিত্যক্ত কূপে নেমে মৃত্যু
‘স্বামী ছেলে ভাই সবই হারালাম, এখন বাঁচব কীভাবে’
নিহতের পরিবারের আহাজারি। ছবি: সমকাল
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ২১:৫১ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ২১:৫৬
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জলই গ্রামে একটি ছাগল উদ্ধারে পরিত্যক্ত কূপে নেমে একে একে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের বাবা-ছেলে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- জলই গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪৮), তার ছেলে নেইমার ম্রং (১০), নেইমারের মামা রতন নকরেক (২৮) এবং গাবরিয়েল নকরেক (৩২)।
স্বামী, সন্তান ও ভাইকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন কাননী নকরেক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার তিন ছেলে এক মেয়ে। সবচেয়ে ছোট ছেলেটাকে হারালাম। এক ছাগল তুলতে গিয়ে স্বামী, ছেলে, ভাই—সবই হারালাম। এখন বাঁচব কীভাবে?’
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে একটি ছাগল গ্রামের একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগলটি উদ্ধার করতে প্রথমে কূপে নামেন গাবরিয়েল নকরেক। কিছুক্ষণ পর তার কোনো সাড়া না পেয়ে শিশু নেইমার নিচে নামে। এরপর ছেলেকে উদ্ধারে নামেন বাবা বাবুল হাদিমা। পরে রতন নকরেকও কূপে নামেন। কিন্তু কেউই আর ওপরে উঠতে পারেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসমত আলী বলেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে একটি ছাগল ও একটি কুকুরকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপে অক্সিজেনের ঘাটতি ছিল। ফলে ভেতরে নামার পর তারা অচেতন হয়ে পড়েন এবং মারা যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত কূপটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হতো। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি চোলাই মদের বর্জ্যও সেখানে ফেলা হয়েছে। এতে কূপের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাবরিয়েল নকরেকের স্ত্রী রুশনা হাদিমা বলেন, ‘আমার দুই বছরের ও ছয় মাস বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। স্বামী দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। এখন সন্তানদের নিয়ে কীভাবে চলব- তা ভেবে আমি দিশেহারা।
আদিবাসী জয়েনশাহী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, নিহতদের পরিবারগুলো খুবই দরিদ্র। দিনমজুরি করে তাদের সংসার চলত। একসঙ্গে চারজনের মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য বড় ধাক্কা।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
- বিষয় :
- টাঙ্গাইল
- মরদেহ উদ্ধার
- নিহত
