রিকন্ডিশন্ড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির শুল্ক কমানোর দাবি বারভিডার
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ২২:৪৪
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে রিকন্ডিশন্ড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত অধিক চাহিদাসম্পন্ন রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ওপর করভার বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বারভিডা সভাপতি আবদুল হক বলেন, ‘বাজেটে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসি ইঞ্জিনক্ষমতার রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ওপর মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে মধ্যবিত্তের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।’
তিনি বলেন, নতুন কর কাঠামো কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ও জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়িগুলোর দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়বে। একটি রিকন্ডিশন্ড প্রিমিও গাড়ির দাম প্রায় তিন লাখ টাকা এবং একটি অ্যাক্সিও গাড়ির দাম আড়াই লাখ টাকার মতো বেড়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে এসব গাড়ি। একই সঙ্গে বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ সংকটে পড়বেন এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বারভিডা সভাপতি বলেন, চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা যথাযথ রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে চান, তবে এ জন্য ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রয়োজন।
শুল্ক নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরে বারভিডার নেতারা জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে দুই হাজার সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিনক্ষমতার নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার আটশত সিসি পর্যন্ত নতুন গাড়ির আমদানিতে আরডি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ একই সক্ষমতার রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে উভয় ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক।
তাদের দাবি, নতুন গাড়ির মতো রিকন্ডিশন্ড প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও সমান শুল্ক সুবিধা দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ির জন্যও কর-সুবিধা সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়।
বারভিডা জানায়, গত চার দশক ধরে জাপানি প্রযুক্তির রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির মাধ্যমে তারা দেশের পরিবহন খাতে অবদান রাখলেও বর্তমানে বহুমুখী সংকটে পড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের উচ্চ মূল্য, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে কয়েক বছর ধরে গাড়ি আমদানি ও বিক্রয় খাত চাপে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে করভার বাড়ানো হলে বাজার আরও সংকুচিত হবে।
তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো মোটরযান খাত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গাড়ি বিক্রি ও আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা উদ্বেগজনক।
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা মহাসচিব রিয়াজ রহমান, সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান চৌধুরী খসরু ও হাবিব উল্লাহ ডন, বর্তমান সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং হাবিবুর রহমান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- গাড়ি ক্রয়
