উল্লাপাড়ায় সড়ক সংস্কারের বলি প্রাকৃতিক বজ্র নিরোধক তালগাছ
ছবি: সমকাল
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ২১:৩৫
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা সংস্কার করতে গিয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে সরকারি উদ্যোগে রোপণ করা প্রায় ২০টি বড় তালগাছ। প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কয়ড়া খামারপাড়া থেকে হোরগাঁতী পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার সড়কের পাশে এই গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে বর্তমানে রাস্তাটির উন্নয়ন কাজ চলছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ও শুক্রবার সকালে কাজ চলাকালে এই গাছগুলো নিধন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জমির মালিক এরশাদ আলী, আব্দুল মমিন ও ইউসুব আলী অভিযোগ করেন, ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশের ফসলি জমি থেকে সহজে মাটি কাটার সুবিধার্থেই গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের মালিকানাধীন ফসলি জমি গভীর গর্ত করে মাটি রাস্তায় তোলা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি তালগাছ নিধন করা হয়েছে, অন্যদিকে ফসলি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে।
প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, পদাধিকারবলে তিনি সভাপতি হলেও মূলত কমিটির সদস্য ও কয়ড়া ইউনিয়ন জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক (কোষাধ্যক্ষ) আবু বকর সিদ্দিক তাঁর অনুসারীদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। তিনিই গাছ উপড়ে ফেলার নির্দেশনা দিয়ে থাকতে পারেন।
অভিযোগের বিষয়ে আবু বকর সিদ্দিক জানান, তিনি সরাসরি কাজ করছেন না, তবে তদারকি করছেন। দীর্ঘদিন পর এই রাস্তার উন্নয়ন হচ্ছে। স্থানীয়দের সুবিধার জন্য তাদের মতামত নিয়েই বাধ্য হয়ে গাছগুলো সরানো হয়েছে। কাজ শেষ হলে আবার নতুন গাছ লাগানো হবে। গাছ কাটার আগে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা–এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। উল্লাপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা দেওয়ান শহিদুজ্জামান জানান, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গার কোনো গাছ কাটার বা উপড়ে ফেলার নিয়ম নেই। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ১০ থেকে ১২ বছর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে বজ্রপাত রোধে এই গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। কোনোভাবেই এগুলো উপড়ে ফেলার সুযোগ নেই। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, তিনি এক মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছেন। এটি আগের প্রকল্প হওয়ায় বিস্তারিত জানা ছিল না, তবে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত করা হবে।
