ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

‘একটি আইসিইউর অভাবে আমার বুকটা খালি হয়ে গেলো’

‘একটি আইসিইউর অভাবে আমার বুকটা খালি হয়ে গেলো’
×

হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি ছিল রাফসান আয়ার। এই ছবি এখন শুধু স্মৃতি। ছবি: তানভীর হোসাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ২২:০৫ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ২২:৪৪

দেড় মাস ধরে শিশুটিকে বাঁচানোর লড়াই। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি। চা দোকানি বাবার শেষ সম্বল উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা। কিন্তু সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল ১৫ মাসের রাফসান আয়ার। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেলের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যু হয় তার।

সন্তান হারানো বাবা পারভেজ মোশাররফের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল। বিলাপ করে তিনি বলছিলেন, ‘ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টার কমতি রাখিনি। আক্ষেপ শুধু একটাই, যদি একটা আইসিইউ থাকত, তবে হয়তো আমার কোল খালি হতো না। বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ 

গাজীপুর শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা পারভেজ মোশাররফ পেশায় চা দোকানি। একমাত্র সন্তান রাফসান ও স্ত্রী রুপা আক্তারকে নিয়ে ছিল তার সাজানো সংসার। গত মাসের মাঝামাঝি রাফসানের জ্বর ও নিউমোনিয়া দেখা দিলে শুরু হয় ছোটাছুটি। ২৬ এপ্রিল হামের টিকা দেওয়ার পর ফের তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। মাওনা আল হেরা হাসপাতাল থেকে গত ৫ মে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। এরপর থেকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিল শিশুটি। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না।

৩২ শিশুর মৃত্যু

রাফসান একা নয়, গত দুই মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম ও হামের উপসর্গে ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বজন ও চিকিৎসকদের দাবি, মুমূর্ষু শিশুদের জন্য আইসিইউ সাপোর্ট থাকলে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যেত।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, ‘এই সময়ে আইসিইউ খুব জরুরি ছিল। সেটি থাকলে হয়তো এত শিশুর মৃত্যু হতো না।’

সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাজহারুল আমীন জানান, মৃত শিশুরা মূলত আইসিইউ উপযোগী ছিল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। আইসিইউ স্থাপনের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান আজ বৃহস্পতিবার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ২৪ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি আছে ১০২ জন। গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩১৭ শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ১৮৩ জন।

আরও পড়ুন

×