সমবায় সমিতির ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ০৮:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়ন সমবায় সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি লিমিটেডের প্রায় ২৫ লাখ ৬১ হাজার ১৬৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সমিতির সাবেক সভাপতিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে পিবিআই।
জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সমিতির বিভিন্ন খাত থেকে ২৫ লাখ ৬১ হাজার ১৬৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ভুয়া ভাউচার, কার্বন কপি ফাঁকা রাখা রসিদ এবং হিসাবে বড় ধরনের গরমিলের বিষয়টি উঠে আসে।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সমিতির তহবিল পরিচালনায় ব্যাংক লেনদেন, সঞ্চয়, ঋণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম পাওয়া গেছে। সোনালী ব্যাংক পিএলসি কলমাকান্দা শাখার স্টেটমেন্ট অনুযায়ী সমিতির হিসাবে জমা ও উত্তোলনে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন- সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান, সেক্রেটারি তঞ্জিল খান ও সাবেক ম্যানেজার সোহাগ খান। তবে আক্কাছ মিয়া ও আ. ছবুর নামে দুই সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একজনের বিরুদ্ধে ১০৯ ধারায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রধান অভিযুক্ত মজিবুর রহমান বড়খাপন ইউনিয়নের একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত। তিনি পোগলা ইউনিয়নের মানপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
মামলার বাদী সমিতির বর্তমান সভাপতি কামরুজ্জামান রতন জানান, সমিতির তহবিলে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মজিবুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। এইমাত্র আমি আপনার (প্রতিবেদক) কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারলাম। এখন ব্যস্ত আছি, বিদ্যালয়ের ক্লাস নিচ্ছি। পরে সময় নিয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলব।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, সমিতির প্রায় ২৪ থেকে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সমিতির নির্বাচনে পরাজয়ের পর টাকা পরিশোধ এড়াতে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন অভিযুক্তরা। তবে প্রতিটি অভিযোগেই নির্বাচিত কমিটির পক্ষে সিদ্ধান্ত আসে। সমিতির সদস্যদের জমা অর্থ ফেরত এবং তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদুল হক বলেন, তদন্তে বিভিন্ন খাতে হিসাবে গরমিল, ভুয়া ও অসম্পূর্ণ ভাউচার ব্যবহারের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফেরদৌস আলমগীর ভূঁইয়া জানান, তিনি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পরে পোগলা ইউনিয়ন সমবায় সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির অডিট হয়নি। অনিয়মের বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। তবে এখন খোঁজখবর নিচ্ছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- আত্মসাৎ
