ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছুটি ছাড়াই হজ কাফেলা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সৌদি গমন

ছুটি ছাড়াই হজ কাফেলা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সৌদি গমন
×

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ০৮:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার রূপসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি অনুমোদন ছাড়া হজ কাফেলা নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক একটি বেসরকারি হজ এজেন্সির ‘মোয়াল্লেম’ হিসেবে কাজ করে আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মধ্যে শুরু হয়েছে দায় এড়ানোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অষ্টমনিষা ইউনিয়নের রূপসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি হজ এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তিনি একাধিকবার হজ কাফেলা নিয়ে সৌদি আরব গেছেন। সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল ১৮ জন হজযাত্রীকে নিয়ে সৌদি আরব যান তিনি। প্রতি হজযাত্রীর বিপরীতে তিনি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পেয়ে থাকেন।
এদিকে এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ ধারা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক সরকারি বা বেসরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সুবিধাভোগমূলক কাজে যুক্ত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে রিসিভ করেন তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলে সানি। তিনি বলেন, ‘বাবা হজে গেছেন। এজেন্সির সঙ্গে কিছু ঝামেলা হওয়ায় এবার নিজেই প্রথম ধাপে ১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে গেছেন। পরে আরও কয়েকজন যাবেন। তবে এ বছর ছুটির বিষয়ে অফিসিয়ালি কিছু জটিলতা হয়েছে।’
তবে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের ব্যক্তিগত ইমো নম্বরে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার এর আগেও হজে গেছেন। এবারও কোনো লিখিত দায়িত্ব অর্পণ বা রেজল্যুশন ছাড়াই মৌখিকভাবে আমাকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। তিনি কবে ফিরবেন, সেটিও জানি না।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক হজে গেছেন কিনা, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে জানানো হয়নি। হজে যেতে হলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও সভাপতির অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে ছুটি অনুমোদনের বিষয়টি সরাসরি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্ব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছুটি অনুমোদনের দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের। আমি কোনো ছুটি অনুমোদন করিনি। তবে যাওয়ার আগের দিন তিনি একটি আবেদন অফিসে জমা দিয়ে গেছেন, সেটি অনুমোদিত হয়নি।’
এ বিষয়ে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘হজে যেতে জেলা শিক্ষা অফিসের অনুমোদন লাগে না, এটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি দেখে থাকে। তবে কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা আর্থিক সুবিধাভোগমূলক কাজে যুক্ত থাকেন, তাহলে সেটি নীতিমালাবিরোধী। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন

×