ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

শিবগঞ্জে বিদ্যালয়ের ২৫ কোটি  টাকার জমি ৪০ বছর পর উদ্ধার  

শিবগঞ্জে বিদ্যালয়ের ২৫ কোটি  টাকার জমি ৪০ বছর পর উদ্ধার  
×

উচ্ছেদকৃত স্থাপনা। ছবি : সমকাল

বগুড়া ব্যুরো 

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ১৭:০৬

বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত ২৫ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি ৪০ বছর ধরে দখল রেখে মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার সকালে বুলডোজার দিয়ে বাসাবাড়ি দোকানপাট গুড়িয়ে দিয়ে দখলকৃত জমি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের ৪১ শতক জমি বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে দখল করে কেউ দোকানপাট, কেউ বাসাবাড়ি নির্মাণ করে ভোগ দখল করে আসছিল। দখলদারদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হকও ছিলেন, যার একার দখলেই ছিল প্রায় ২০ শতক জমি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চেষ্টা করেও অবৈধ দখল থেকে জমি মুক্ত করতে পারেনি। 

গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় কয়েকজন সদস্য বিষয়টি সভায় উপস্থিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নজরে আনেন। অভিযোগ শুনে প্রতিমন্ত্রী দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন উপজেলা প্রশাসনকে।

পরবর্তীতে তদন্তে সরকারি জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে দখলকৃত জমির ওপর নির্মিত অবৈধ মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ ও গুড়িয়ে দেওয়া হয়। 

শিবগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, আমরা স্কুলের অবৈধ দখলকৃত জায়গা উদ্ধারে বহু জায়গায় ধর্না দিয়ে নিরাশ হয়েছি। কোনো প্রতিকার পাইনি বরং অবৈধ দখলদাররা আমাদের এ বিষয়ে চুপ থাকতে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি ছিল শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্পদ। একটি অসাধু ও প্রভাবশালী মহল জায়গাটি দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করে নিজেদের পকেট ভরেছে। 

অবৈধ দখলদারদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হক ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের করা হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন। অন্য দখলদারদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে দখলের প্রমাণ পাওয়ায় আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের জমিটি বেদখলে ছিল। অবশেষে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন

×