ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

জমিতে কোমরসমান পানি, শ্রমিক সংকটে দিশাহারা কৃষক

জমিতে কোমরসমান পানি, শ্রমিক সংকটে দিশাহারা কৃষক
×

জমিতে কোমরসমান পানি

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ১৭:৩৩ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ | ১৭:৪১

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হালুয়াঘাটের বিলাঞ্চলের ধানের জমি তলিয়ে গেছে পানিতে। অনেক স্থানে জমিতে কোমরসমান পানি জমে থাকায় পাকা ধান কাটতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকেরা। এর সঙ্গে তীব্র শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরির চাপ যোগ হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার বিলডোরা ইউনিয়নের টিলাপুড়ি ও খাওয়াপুড়ি এবং ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের মাটিখলার গেইর বিল এলাকার বিস্তীর্ণ জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানির চাপে পাকা ধান হেলে পড়েছে। ক্ষতি এড়াতে কৃষকেরা দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করলেও অনেক শ্রমিক পানিতে নেমে কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে শ্রমিক সংকটে ধান ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

বিলডোরা এলাকার কৃষক শামসুল ইসলাম বলেন, ‘খাওয়াপুড়ি বিলে ৩৫ শতাংশ জমি বোর ধান লাগাইছিলাম। খেতে কমরসমান পানি। কামলাও পাইনা। যাও দুই একজন পাওয়া যায় তারা পানিতে নাময়ে ধান খাটতে চাইনা। এই খেতের ধানের ভাত দিয়া সারা বছর খাই। অহন খেতের যে অবস্থা ধান কাটার ভাও নাই। সারা বছর পোলাপান লইয়া কিভাবে চলবান বুঝতাছিনা। হুনতাছি সরকার নাকি ভর্তুকি দিবো। যদি দিতো অনেক উপকার হইতো।’

টিলাপুড়ি এলাকার কৃষক এরশাদ ঠাকুর বলেন, ‘জমিতে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে ধান কেটে উঁচু জায়গায় স্তূপ করে রাখছি।’

আরেক কৃষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘ধান কাটতে শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। ধান মাড়াইয়ের পর ট্রলিতে করে খোলা উঠানে নিতে দূরত্বভেদে প্রতি বস্তায় ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং সেখান থেকে ঘরে তুলতে আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা খরচ হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘সব মিলিয়ে খরচ বেড়েছে অনেক। কিন্তু ধানের দাম বাড়েনি। তবু সারা বছরের ভাতের আশায় ধান ঘরে তুলতেই হবে।’

কৃষকেরা জানান, কেউ কেউ হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করলেও জমি পানিতে ডুবে থাকায় সেই উদ্যোগও সফল হচ্ছে না। ফলে টিলাপুড়ি, খাওয়াপুড়ি ও জামবিল এলাকার কৃষকেরা এবার বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘এ বছর উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৩০ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে রয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন

×