ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিতে বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ: অর্থমন্ত্রী

‘অতীতে জনগণের টাকা দুর্নীতিতে অপচয় হয়েছে’

ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিতে বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ: অর্থমন্ত্রী
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ১৭:৫৮

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘সরকার ঘোষিত ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিত করতে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দের অর্থের সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্থানসংকট ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যা সমাধানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কাজে লাগানোর চিন্তা করছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘এর আওতায় রোগীর চিকিৎসা করবে বেসরকারি হাসপাতাল, আর বিল পরিশোধ করবে সরকার।’

যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশে জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বিশাল অঙ্কের টাকা তেল-গ্যাস খাতে চলে গেছে। বিগত সরকারগুলো থেকে আমরা পেয়েছি শুধু মাইনাস। অনেক বিল পর্যন্ত পরিশোধ না করেই তারা চলে গেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রেখে গেছে আগের সরকার।’

অতীতে জনগণের অর্থ দুর্নীতিতে অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিভিন্ন খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মেডিকেল শিক্ষার মান নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মানহীন মেডিকেল কলেজের প্রভাব পুরো জাতিকে বহন করতে হয়। তাই স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। ব্যক্তিগত প্রভাব বা রাজনৈতিক তদবিরের পরিবর্তে রোগীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

হাসপাতালের জন্য এমআরআই মেশিন, সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ঠিক না রেখে আসনসংখ্যা বাড়ালে তা কার্যকর হবে না।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সৈয়দ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসীম বড়ুয়া, পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান রানা।

পরে বিকেলে অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা আর থাকবে না।

আরও পড়ুন

×