ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সামাজিকমাধ্যমে মন্তব্যের জেরে সংঘর্ষ, আহত ৪০

সামাজিকমাধ্যমে মন্তব্যের জেরে সংঘর্ষ, আহত ৪০
×

প্রতীকী ছবি

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা 

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ১৮:০২

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সোলাইমানপুর এলাকায় সামাজিকমাধ্যমে করা মন্তব্যের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এসময় বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। 

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে হৃদয় (৩০), নৌরিন বেগম (৩২), পারভেজ মিয়া (৩০), সুবর্ণা বেগম(২৪), দুধ মিয়া (৩০), সাগর মিয়া (৩০) জনি মিয়া (২২), হাসান মিয়া (১৭), নাইম ইসলাম (২৪), জীবন মিয়া (২০), অপু মিয়া (২২), বাবুল মিয়া (৫০), হৃদয় মিয়া (২৫) ও ইমরান মিয়া (২৬) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। 

গুরুতর আহত পারভেজ মিয়া ও সুবর্ণা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পাবেল ও বিজয় নামে আরও দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। 

ভৈরব থানার এসআই পাবেল মোল্লা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একই বংশের মধু মুন্সি বাড়ি ও দিল মোহাম্মদের বাড়ির মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবে থাকা আনোয়ারের সঙ্গে ফরহাদ মিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ফরহাদ দেশে ফিরে এলে গত ৭ ও ৮ মে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় প্রায় ৩০ জন আহত হন।

এরপর ১৩ মে স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসা হলেও উত্তেজনা থামেনি। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার রাতে বাজারে গেলে বাদশা মেম্বার পক্ষকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে গালাগাল করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়ে পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

শনিবার সকালে বাদশা মেম্বার গ্রুপের লোকজন মেরাজ মেম্বার পক্ষের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। টেঁটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

মেরাজ মেম্বার অভিযোগ করেন, বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাদশা মেম্বার পক্ষ তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। অন্যদিকে বাদশা মেম্বার দাবি করেন, ফেসবুকে তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও গালাগালির প্রতিবাদ করতে গেলে তার লোকজনের ওপর হামলা করা হয়।

এ বিষয়ে বাদশা মেম্বার বলেন, সুলাইমানপুরে একই বংশের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার মিমাংসা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার আমাকে জড়িয়ে মেরাজ মেম্বারের পক্ষের এক যুবক ফেসবুকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের বাড়ির লোকজনের উপর মেরাজ মেম্বারের বাড়ির লোকজন হামলা করে। এতে মারামারির ঘটনায় আমাদের বংশের দুইজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এছাড়া সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে।

ভৈরব থানার এসআই পাবেল মোল্লা জানান,  ১৫ মে রাতে মেরাজ মেম্বার গ্রুপের সাথে বাদশা মেম্বার গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। রাতেই আমার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। শনিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় তারা সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি। দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইতিমধ্যে দুই পক্ষেরই মামলা হয়েছে। শনিবার ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজকের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×