মমেক হাসপাতাল
টিকা নেওয়ার আগেই হাম ও হামের উপসর্গে ৭৭ শতাংশ শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সমকাল
তানভীর হোসাইন, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ১৮:২৪ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ | ১৮:৩১
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গত ১৩ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ শিশুরই হামের টিকা নেওয়ার ন্যূনতম বয়স পূর্ণ হয়নি।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুদের ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে হামের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশু ৯ মাস বয়স হওয়ার আগেই সংক্রমিত হয়েছে।
হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত ৩১ শিশুর মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল ০ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। এদের মধ্যে ১৮ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে শিশু। এছাড়া ১০ থেকে ১৫ মাস বয়সী ৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবাই ছেলে। ১৫ মাসের বেশি বয়সী আরও ২ জন শিশু মারা গেছে, যার মধ্যে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে। বাকি একজন শিশুর বয়সের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মৃত শিশুদের অধিকাংশই ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা। তালিকাভুক্ত ৩১ জনের মধ্যে ১৬ জনই ময়মনসিংহের। এছাড়া নেত্রকোনা জেলার ৫ জন, জামালপুরের ৪ জন, কিশোরগঞ্জের ৩ জন, শেরপুরের ২ জন এবং টাঙ্গাইল জেলার ১ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা দেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই এত সংখ্যক শিশুর মৃত্যু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ৯ মাসের আগে শিশুদের সরাসরি টিকা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় গর্ভবতী মায়েদের যথাযথ টিকাদান নিশ্চিত করা, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে না আনায় মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়ছে বলেও মনে করছেন তারা।
আইসিইউ ও শয্যা সংকটে বাড়ছে মৃত্যু
চিকিৎসকদের মতে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট এবং শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধার অভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, ‘এই সময়ে আইসিইউ খুব জরুরি ছিল। সেটি থাকলে হয়তো এত শিশুর মৃত্যু হতো না। তবে শিশুদের আইসিইউ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।’
সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাজহারুল আমীন জানান, ‘মৃত শিশুরা মূলত আইসিইউ উপযোগী ছিল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। আইসিইউ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য যন্ত্রপাতি, শয্যা সংখ্যা বাড়ানো ও জনবল ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম ইউনিটে শয্যা রয়েছে মাত্র ৬৪টি। অথচ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০২ জন শিশু। ফলে অনেক গুরুতর অসুস্থ শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তীব্র শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের এভাবে রাখা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৭২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ২১৭ জন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৬ থেকে ৩২ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।
- বিষয় :
- হাম
- হামের উপসর্গ
- শিশু
- মৃত্যু
