ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পে-অর্ডার গায়েব, কালিয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

পে-অর্ডার গায়েব, কালিয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
×

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ২২:০৭

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নড়াইলের কালিয়া শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পে-অর্ডার চুরি, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক গত ১৩ মে কালিয়া থানায় মামলা করেছেন।

মামলাটির বিবাদী এনামুল কবির ইমন চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের কালিয়া শাখায় দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা গ্রামের বাসিন্দা। তবে লোহাগড়ার কুন্দশী এলাকার শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ ওঠার পর এনামুল কবির ইমনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাতক্ষীরা মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এনামুল কবির ইমন কৃষি ব্যাংকের কালিয়া শাখার দ্বিতীয় কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর জিম্মায় নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দস্তাবেজ সংরক্ষিত ছিল। গত ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অফিস শুরুর আগেই তিনি শাখায় প্রবেশ করেন। পরে নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারের একটি পাতা (যার নম্বর-০৭২৬৯৯৯) সরিয়ে ফেলেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি ধরা পড়ে। ওই পে-অর্ডারটি শাখার বাইরে নিয়ে একটি জালিয়াত চক্রের কাছে দেওয়া, সেটিতে ঢাকার শ্যামলী শাখার নাম, কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিটিসি) সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে জমা দেওয়া হয়। পরে পে-অর্ডারটি নগদায়নের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঢাকার স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ে পাঠানো হলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে কালিয়া শাখার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে।

এনামুল কবির ইমন তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ‘দস্তাবেজ আমার জিম্মায় ছিল, সেটি হারিয়ে গেছে। আমি কোনো জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নই।’

এ বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল ১৩ মে কালিয়া থানায় মামলা করেন। তিনি বলেন, শুরুতে এনামুল কবির ইমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তথ্য প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। জালিয়াত চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।

কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী শনিবার বলেন, এ ঘটনায় কৃষি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল ১৩ মে থানায় মামলা করেন। এটি তদন্তের জন্য এসআই প্রসেনজিৎ কুমার ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
 

আরও পড়ুন

×