ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চালককে নিয়ে গেছেন সিভিল সার্জন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ

চালককে নিয়ে গেছেন সিভিল  সার্জন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ
×

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সখীপুর ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটিমাত্র অ্যাম্বুলেন্স। তবে চালক না থাকায় এই সেবা নিতে পারছেন না জরুরি রোগীরা। অ্যাম্বুলেন্সটির চালক দেবাশীষ অধিকারী গত ২৬ এপ্রিল থেকে চালাচ্ছেন টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনের গাড়ি। ইতোমধ্যে ২১ দিন পার হয়ে গেছে।

হাসপাতালের তথ্যমতে, এই ২১ দিনে ৯০ জনেরও বেশি মুমূর্ষু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু চালক না থাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাননি তারা। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দুই-তিন গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল সিভিল সার্জনের নির্দেশনাপত্রে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক দেবাশীষ অধিকারীকে গত ২৬ এপ্রিল সকালে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনের গাড়ির চালাক হিসেবে সংযুক্তি করা হয়। নির্দেশ অনুসারে ২৫ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন চালক দেবাশীষকে ছাড়পত্র দেন। এরপর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি অচল। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক দেবাশীষ অধিকারীকে দুই মাসের জন্য সিভিল সার্জনের গাড়ি চালাতে প্রেষণে আনা হয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ভাড়া এক হাজার ৮০০ টাকা, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ৮০০ টাকা এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ভাড়া এক হাজার ৬০০ টাকা।

ব্যক্তি মালিকানা অ্যাম্বুলেন্সে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ভাড়া তিন হাজর ৫০০ টাকা।
পা ভাঙা রোগী রাকিবের মামা আবদুল কুদ্দুস জানান, গত ১৪ এপ্রিল দাখিল পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর ভাগনে রাকিবের হাত-পা ভেঙে গেছে। তাঁকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে চার হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শিকদার মোহাম্মদ সবুর রেজার ভাষ্য, সিভিল সার্জনের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটিমাত্র অ্যাম্বুলেন্সের চালককে নিজের গাড়ির চালক হিসেবে প্রেষণে নেওয়া ঠিক হয়নি। শোনা যাচ্ছে, বাসাইল ও ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চালকদেরও দুই মাস করে প্রেষণে নেওয়া হয়েছিল। এতে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি ইচ্ছে করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছেও সহযোগিতা চাইতে পারতেন। তা না করে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। রোগীদের হয়রানি করছেন। এটা তার স্বেচ্ছাচারিতা। 
২-৩ দিনের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালককে নিজ কর্মস্থলে ফেরত পাঠানোর দাবি জানান তিনি।
অ্যাম্বুলেন্স চালক দেবাশীষ অধিকারী সমকালকে বলেন, ‘আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ছাড়পত্র পেয়ে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনের সরকারি গাড়ি চালাচ্ছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন রুমি জানান, নির্দেশনাপত্র অনুযায়ী ছাড়পত্র দিলেও সিভিল সার্জনকে জটিল ও গরিব রোগীদের আর্থিক দুর্ভোগের বিষয়ে জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু সমকালকে বলেন, ‘আমার গাড়ি চালক অসুস্থ থাকায় আগেও দুটি উপজেলার অ্যাম্বুলেন্স চালককে দুই মাস করে প্রেষণে এনেছিলাম। আমার গাড়ি চালক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চালককেও দুই মাসের জন্য আনা হয়েছে।’
 

আরও পড়ুন

×