পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট নিয়ে মারধর, ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ১২:৩১ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ১৭:০২
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় ফেসবুক পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় ছৈয়দা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ছৈয়দা বেগম রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ছব্বির আহমদের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ইউনুস ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন। পরে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করেন। এ সময় এনজিওকর্মী এসএম ইমরান তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহতের সন্তান এসএম ইমরান অভিযোগ করেন, স্থানীয় মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, জিসান ও অ্যাম্বুলেন্সচালক শামসুল আলমসহ একদল যুবক হামলা চালিয়ে তার মাকে হত্যা করেছে। হামলাকারীরা সবাই স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এদিকে ঘটনার পরপরই বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার এই হামলার ঘটনায় তারা জড়িত নয় বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দেয়াললিখন নিয়ে আকাশ নামের স্থানীয় বিএনপি সমর্থক এক যুবক ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে স্থানীয় এক যুবক হা হা রিঅ্যাক্ট দেন। আকাশ ওই যুবকের কাছ থেকে এ ধরনের রিঅ্যাক্টের কারণ জানতে চান। জবাবে তিনি দাবি করেন, ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি তার স্ত্রী ব্যবহার করেন।
এসপি আরও বলেন, এই ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির সময় সৈয়দা খাতুন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এই ঘটনায় একজনকে হেফাজতে নিয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, ‘রাতে উখিয়াতে হামলার ঘটনাই ঘটেনি। ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর বাড়ি অনেক দূরে। ঘরেই অসুস্থ হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পুলিশের তদন্তে হত্যার ঘটনা প্রমাণিত হলে এবং সে ঘটনায় বিএনপিরও কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- কক্সবাজার
- মারধর
- নারীর মৃত্যু
