ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ জাকসুর

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ জাকসুর
×

জকসুর সড়ক অবরোধ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ২১:৪০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। আজ সোমবার বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এর আগে শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে জাকসুর নেতারা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

সমাবেশে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রায় দেড় শ ঘণ্টা পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিতে চাই, অবিলম্বে অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ তীব্র থেকে তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তুলবে। এবং এই আন্দোলনের ফলে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।’

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে এর চেয়ে অনেক বড় ঘটনা ঘটে যেখানে অপরাধীরা খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু এই ঘটনায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, অপরাধীর সম্পূর্ণ ফুটেজ থাকার পরও প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি।’

এদিকে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতসহ প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন করেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের শিক্ষার্থী ও জাকসুর পরিবহন সম্পাদক তানভীর রহমান বলেন, গত ১২ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই ঘটনার শত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ন্যূনতম দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের সামনে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সচেতন এবং তারা জানেন কীভাবে একটি আন্দোলন সফল করতে হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু এই আন্দোলনকে পুঁজি করে কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে।’

প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের নিন্দা জানিয়ে জাকসুর এই নেতা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ. কে এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক আচরণ করা হয়েছে এবং তার প্রতি ঘৃণ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, এ ধরনের আচরণের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রয়োজনে তাদের ছাত্রত্বও বাতিল করতে হবে।’

এর আগে গত শনিবার সকালে একদল আন্দোলনকারী প্রক্টর অফিসে তালা দেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তারা প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি এবং ক্যাম্পাসে তাঁদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এরপর রোববার সন্ধ্যায় পৃথক তিনটি ঘটনায় ক্যাম্পাসে নারী হেনস্তার অভিযোগে তিনজন বহিরাগতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় সোপর্দ করেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, একই রাতে প্রক্টর অফিসের সামনে একদল শিক্ষার্থী প্রক্টর অধ্যাপক এ. কে এম রাশিদুল আলমের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগে আটক ওই তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা থেকে হেফাজতে নেয় আশুলিয়া থানা পুলিশ।

আরও পড়ুন

×