ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চাকিরপশার বিল রক্ষায় ডিজিটাল উদ্যোগ

চাকিরপশার বিল রক্ষায় ডিজিটাল উদ্যোগ
×

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে  চাকিরপশার বিল রক্ষায় নেওয়া হয়েছে নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ। বিলের সম্পূর্ণ আরএস দাগ নম্বরের তালিকা যুক্ত করা হয়েছে একটি ওয়েবভিত্তিক ডিজিটাল অনুসন্ধান প্ল্যাটফর্মে। 
সংশ্লিষ্টরা জানান, সোমবার থেকে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মে বাংলা ও ইংরেজি–উভয় সংখ্যায় দাগ নম্বর লিখে অনুসন্ধান করা যাবে। ফলাফলে তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাবে সংশ্লিষ্ট জমি বিলের অংশ কিনা। এতে জমি কেনাবেচা, দখল ও মিউটেশন-সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমবে। ডিজিটাল এ প্ল্যাটফর্মটিতে মৌজাভিত্তিক আলাদা ফিল্টারও যুক্ত করা হয়েছে। চান্দামারী, নাফাডাঙ্গা, সওদাগড়, খালিসা ও চাকিরপশার তালুক–প্রতিটি মৌজার পৃথক তালিকা দেখার সুবিধা রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তারাও অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ কিংবা মিউটেশন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই তালিকাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া আইনজীবী ও আদালত বিলসংক্রান্ত মামলার প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়েও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় ক্রেতা ও বিক্রেতারা সহজেই দাগ নম্বর যাচাই করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিলের জমি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে প্রতারণা করার সুযোগও কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদমাধ্যম ও পরিবেশকর্মীরাও বলছেন, বিলের জমি দখল বা পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কার্যকর সহায়ক হবে। তবে শুধু ডিজিটাল তালিকা তৈরি করলেই বিল রক্ষা সম্ভব নয়। প্রয়োজন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত জরিপ এবং স্থানীয়দের সক্রিয় অংশগ্রহণ। চাকিরপাশার বিলকে দখল ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রযুক্তির পাশাপাশি কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগও জরুরি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিল সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার আরিফ বলেন, ‘বিলের জমি দখল, অবৈধ বিক্রি ও ভুল তথ্যের কারণে মানুষ নানা জটিলতায় পড়েছে। ডিজিটাল এই তালিকা জমি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং প্রতারণা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর নিয়মিত হালনাগাদ ও মনিটরিং জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউর রহমান বলেন, ‘এর মাধ্যমে জমি কেনা, লিজ নেওয়া বা ব্যবহার করার আগে সহজেই নিশ্চিত হওয়া যাবে জমিটি বিলের অংশ কিনা। এতে ভুলবশত জমি কিনে ঝুঁকিতে পড়বে না কেউ।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা তাসনিম বলেন, ‘এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এতে বিলের জমিতে ভুলবশত স্থাপনা নির্মাণ বা চাষাবাদ করে আইনি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা কমবে।’

আরও পড়ুন

×