ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শাটডাউনে শিক্ষার্থীরা, ডুয়েট অচল

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসার সুযোগ চান ভিসি

শাটডাউনে শিক্ষার্থীরা, ডুয়েট অচল
×

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 গাজীপুর প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৯:০২ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ১২:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্দোলনে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের একাংশ। এর আগে সকাল থেকে তারা দিনভর বিক্ষোভ মিছিল ও দাবি আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করলেও উপাচার্য এদিনও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি। 

‘লাল কার্ড’ ও ‘ব্লকেড’ কর্মসূচির পর গতকাল বিকেলে ডুয়েটে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেন। নবনিযুক্ত ভিসিকে প্রত্যাহার করে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডুয়েটের কোনো শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ দেওয়াসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

এদিকে সরকারের নিয়োগ করা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল গতকালও ডুয়েটে ঢোকার চেষ্টা করেও পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী গত রোববার তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিলেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারছেন না। কখনও ভার্চুয়ালি, কখনও সরাসরি মিটিং করছেন শিক্ষকদের সঙ্গে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে ডুয়েটের অন্তত ৪৫ জন শিক্ষকের সঙ্গে জরুরি মিটিং করেন তিনি। 

ডুয়েটের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো.খসরু মিয়া জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরদপ্তরের সভাকক্ষে গতকাল উপাচার্যের সঙ্গে মিটিং হয়। শিক্ষকরা উপাচার্যকে শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি সম্পর্কে অবহিত করেন। 

আন্দোলনকারী একজন শিক্ষার্থী জানান, ‘সন্ধ্যায় আমাদের বিষয়টি অবহিত করেন শিক্ষকরা। নবনিযুক্ত উপাচার্য শিক্ষকদের মাধ্যমে অনুরোধ করেছেন অন্তত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যেন একবার বসার সুযোগ দেওয়া হয়।’ তবে উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা বসবেন কিনা সে বিষয়ে প্রতিবেদন লেখার সময় গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

সকাল ১০টার পরপরই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মতো প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। পরে তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিলসহ তিন দাবির পক্ষে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। ছাত্রদল ও পুলিশ নিয়ে নতুন ভিসি ক্যাম্পাসে আসছেন–দুপুরের পর এই গুজব ছড়িয়ে পড়লে আবার উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। 

এই অবস্থায় বিকেলে ক্যাম্পাসে শাটডাউন ঘোষণা করেন পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র হাসানুর রহমান। তবে আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা আছে জানিয়ে শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান বলেন, ‘মিথ্যা ট্যাগ ও মামলা দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে অনড় আছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আরও কঠোর আন্দোলন চলবে।’ এ সময় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের ছাত্র রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সকালে ব্লকেড কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে রাখলেও পকেট গেটটি খোলা ছিল। পরিচয় নিয়ে লোকজন ভেতরে ঢোকানো হচ্ছিল। কিন্তু বিকেলে শাটডাউন ঘোষণার পর ক্যাম্পাসের সব কিছু পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। 

গতকাল সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের সামনে আগে পুড়িয়ে দেওয়া একটি মোটরসাইকেলের অংশবিশেষ পড়ে আছে। ফটকের সামনে খালি পানির ট্যাঙ্ক ও কাঠ ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল। 

গত রোববার সকালে ডুয়েটে সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের যোগদানকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ডুয়েটের পুরো এলাকা। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ছুড়তে হয়েছে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ডুয়েটের ভিসি হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও যুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে নিয়োগ প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন শুরু করে।

ঘটনার পর থেকেই ছাত্রদল অভিযোগ করছে, সরকারের নিয়োগ করা উপাচার্যকে প্রত্যাহার করে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে ছাত্রশিবির। ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে তারা আন্দোলন করছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির অভিযোগ করেছে, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। ডুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে শিবির ও ছাত্রশক্তি এ আন্দোলন করছে। সাবেক ভিসির অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই ক্যাম্পাসে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×