ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শেরপুরে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

শেরপুরে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
×

নিহত আল আমিন, গ্রেপ্তার শুভ ও সম্রাট। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ২২:২১

শেরপুর সদর উপজেলায় মাথা কেটে আল আমিন নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় শুভ (১৯) ও সম্রাট (২০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশিও জব্দ করেছে পুলিশ। 

বুধবার বিকেলে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।  

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১৮ মে বিকেলে নতুন বাগলগড় গ্রামের একটি ঘাসক্ষেত থেকে মস্তকবিহীন অর্ধগলিত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বাবা সাইফুল ইসলাম মরদেহের পরিহিত পোশাক ও জুতা দেখে ছেলে আলামিনকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার শেরপুর সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। 

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার রাতে পিবিআই প্রথমে শুভকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী সম্রাটকেও আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিহত আল আমিনের পরিবারের সঙ্গে শুভর পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। আল আমিনের বোনের সঙ্গে শুভর প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে অপমানের প্রতিশোধ নিতে শুভ পরিকল্পিতভাবে আলামিনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ মে শুভ তার বন্ধু শান্তর মোটরসাইকেলে করে আলামিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে সম্রাটের সহযোগিতায় প্রথমে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে তাকে অচেতন করা হয়। পরে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।

পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি শুভ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী শান্তও আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই একটা টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

এদিকে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় এলাকার বাসিন্দা নিহত আল আমিনের বাবা সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, শুভ দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে বিরক্ত করে আসছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুভর সঙ্গে তার ছেলে আল আমিনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে আল আমিনকে জবাই করে হত্যার পর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে শরীরে এসিড ঢেলে ঝলসে দেওয়া হয়। পরে ছেলের পরিহিত কাপড় দেখে তিনি তাকে চিনতে পারেন। 

আরও পড়ুন

×