ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি সরকার তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে

পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি সরকার  তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে
×

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে -পিআইডি

 টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানি টেনে ওপরে তোলা হচ্ছে। এই পানি ব্যবহার আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে। সবার জন্য পানি পেতে পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি সরকার তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে।’ 

গতকাল বুধবার গাজীপুরের টঙ্গীতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে ভাষণ দেন। আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে এই সমাবেশে তিনি বাহিনীর সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। 

বাসস জানায়, আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে এই বাহিনী ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক ও সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। শৃঙ্খলার সামান্য ঘাটতিও জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “যে কোনো দেশেই যে কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’ মেনে চলা অনিবার্য ও অবশ্য পালনীয় নীতি। এই দুটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা থাকলে কোনো বাহিনী প্রকৃত অর্থে সুশৃঙ্খল বাহিনী হয়ে উঠতে পারে না। আপনাদের বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখতে হবে। কোনো বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে সেই বাহিনী সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়। পেশাদারিত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি বহুমাত্রিক ও জনমুখী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রেখেছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এই বাহিনী সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি– এই প্রতিটি শক্তি সমন্বিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। এই কাঠামোই বাহিনীকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম, সরকারি দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পকলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নিরাপত্তা প্রদান, বাল্যবিয়ে রোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা, মাদকবিরোধী কার্যক্রমসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারে আনসার-ভিডিপি সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাহিনী কেবল নিরাপত্তা রক্ষা নয়, সামাজিক পরিবর্তনেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী একাডেমিতে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর সদস্যদের তাঁত ও বুনন শিল্প, মৃৎশিল্প, গবাদি পশু খামার, জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। বাহিনীর সদস্যরা কীভাবে কাজ করছেন, সে সম্পর্কে তিনি অবহিত হন।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দেন। তিনি শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কর্মসূচি শুরু করেন। সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরের ধরপাড়ার সাতাইশ চৌরাস্তা এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। গতকাল দুপুরে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ যে পরিমাণ পানি নিচে থেকে টেনে ওপরে তোলা হয়েছে, খাল ও নদী খনন করে এবং বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি যদি আমরা ছড়িয়েও দিই, তবু আগামী ২০ বছরে তা রিচার্জ হবে না। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে।’ সবার জন্য পানি পেতে পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি বিএনপি সরকার তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িঘর, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। খাল খনন কৃষি ও খাদ্যের চাহিদা পূরণ করবে। খাল খনন শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইনসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন শেষে পুকুরে মাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

আরও পড়ুন

×