ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

১০ টাকা চাঁদা না পেয়ে চালককে হত্যা

১০ টাকা চাঁদা না পেয়ে চালককে হত্যা
×

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৯:০৪ | আপডেট: ২১ মে ২০২৬ | ১১:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ১০ টাকা চাঁদা না পেয়ে মমিনুল মিয়া (৪০) নামের এক অটোরিকশার চালককে হত্যা করা হয়েছে। গত রোববার বিকেলে দড়িকান্দি এলাকায় শাহিন মিয়া নামের এক যুবক তাঁর লোকজন নিয়ে মমিনুলকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে গতকাল বুধবার ভোরে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর প্রতিবাদে গতকাল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি এলাকায় অবরোধ করে এলাকাবাসী। এতে চট্টগ্রাম লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মমিনুল মিয়া উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহিন মিয়াসহ তাঁর লোকজন পলাতক।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযুক্ত শাহিন মিয়ার নেতৃত্বে তাঁর লোকজন প্রতিদিন অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা তুলছে। গত রোববার বিকেলে মমিনুল মিয়া তাঁর অটোরিকশা নিয়ে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে যান। এ সময় শাহিন মিয়া তাঁর কাছে চাঁদা চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বচসা হয়। পরে শাহিন মিয়া তাঁর লোকজন নিয়ে মমিনুল মিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে অটোচালককে মাথায় আঘাত করেন। এতে মমিনুল গুরুতর আহত হলে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান। পরে সকাল ১০টার দিকে তাঁর লাশ দড়িকান্দি এলাকায় আনা হলে এলাকাবাসী সড়ক আটকিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 
এদিকে মমিনুলকে আহত করার ঘটনায় গত সোমবার রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন তাঁর বড় ভাই মোবারক হোসেন। ওই মামলায় শাহিন মিয়াকে আসামি করা হয়। 
মমিনুলের স্ত্রী রিনা বেগম জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তাঁর স্বামী। তাঁকে হারিয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে কীভাবে সংসার চলবে, সেই চিন্তায় রয়েছেন তিনি। 
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, চাঁদার জন্য মারধর করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে। আসামি গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। 
 

আরও পড়ুন

×