দুইদিনে অপহৃত ৩৯ জেলে
দেড় লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চাইছে বনদস্যুরা
সুন্দরবনের কটকা এলাকা। ছবি: গুগল ম্যাপ
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ১৮:৩৬
সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকার খাল থেকে দুই দিনে ৩৯ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে বনদস্যুরা। মঙ্গলবার ও বুধবার গভীর রাতে সুন্দরবনের কটকা এলাকা থেকে তারা অপহরণের শিকার হন। জিম্মি জেলেদের মধ্যে ১১ জন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ও ২৮ জন ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। মুক্তিপণ হিসেবে তাদের সবার জন্য দেড় লাখ টাকা করে দাবি করেছে দস্যুরা।
দস্যুতার সময় সুন্দরবনের খালে লুকিয়ে পলিয়ে আসা কয়েকজন জেলে বৃহস্পতিবার পাথরঘাটার বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রুহিতা গ্রামের ট্রলারমালিক কালাম মিয়ার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনের কটকা স্টেশনের কেওড়াতলা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে বাধা জালের কয়েকটি ট্রলার অবস্থান করছিলো। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই জাহাঙ্গীর বাহিনী ওরফে কাটুন বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা সেখানে হানা দেন। ২৫-৩০ জন দস্যুর সবার হাতেই বিদেশি অস্ত্র ছিলো।
কালাম মিয়া বলেন, প্রথমে ওরা তাঁর ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ট্রলারের কিছু জেলে খালের পড়ে পলিয়ে আসেন। তবে অন্য ৪ জেলেসহ ট্রলারটি আটক করে। পরে দুটি ট্রলারে ভাগ হয়ে জলদস্যুরা চারটি ট্রলার জব্দ করে। প্রত্যেক ট্রলার থেকে রসদ সামগ্রীসহ ১২ জন ছেলেকে উঠিয়ে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন। বুধবার রাতে একইভাবে ৮টি ট্রলার থেকে ২৭ জন ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এদিকে কয়েকটি জেলে পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মোবাইল ফোন নম্বরে মুক্তিপণ চেয়ে কল এসেছে। জেলেপিছু দেড় লাখ টাকা দাবি করছে দস্যুরা। এসব জেলে পরিবারের কোনো সদস্যই নাম প্রকাশে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, যদি দস্যুরা জেনে যায়, কোন জেলের স্বজনেরা এসব তথ্য দিয়েছেন, তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হবে।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছগির আলম জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি অপহৃত জেলেদের বিষয়ে বুধবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি দুয়েকদিনের মধ্যে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা দিয়েছেন।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অপহরণের সংবাদ পেয়ে জেলেদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া সেলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলার আওতাধীন। তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন। ইতোমধ্যে দুটি দল অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে চেষ্টা করছে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল জানিয়েছেন, এসব ছেলেদের উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনে কাজ করছেন।
