ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রায়োগিক অরাজকতার শিকার ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

প্রায়োগিক অরাজকতার  শিকার ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
×

 চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৮:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বর্তমানে চরম নীতিগত দুর্বলতা ও প্রায়োগিক অরাজকতার শিকার। দেশে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে উৎপন্ন বিষাক্ত ই-বর্জ্যের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও ব্যবস্থাপনায় নীতিনির্ধারণী স্থবিরতা ও সুশাসনের তীব্র ঘাটতি বিদ্যমান। 

চট্টগ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রামের সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। 
এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সনাক চট্টগ্রামের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, টিআইবির পরিবেশ ও জলবায়ু অর্থায়ন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ড. নাবিল হক এবং গবেষণা সহযোগী আব্দুলাহ্‌ জাহীদ ওসমানী। সেমিনারে গবেষণা প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরেন আব্দুল্লাহ্‌ জাহীদ ওসমানী।
গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মোট ই-বর্জ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই কোনো ধরনের প্রশাসনিক তদারকি ছাড়াই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ও নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়ার আওতায় আসছে মাত্র ৩ শতাংশ বর্জ্য। 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি পিছিয়ে আছে। বৈশ্বিকভাবে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, এর এক-চতুর্থাংশেরও কম অংশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা বা রিসাইক্লিংয়ের আওতায় আসে। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের দায়বদ্ধতা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এই দুই বিষয়ের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই ই-বর্জ্যের সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা সম্ভব। 
বিদ্যমান এ অরাজকতা নিরসনে টিআইবি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ই-বর্জ্য বিধিমালা ও বাসেল কনভেনশনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ করা; তদারকি সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ছাড়পত্র ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করে দুর্নীতি বন্ধ করা; বিটিআরসি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবা চালু করে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সোলার প্যানেল ও ইলেকট্রিক যানবাহনের বর্জ্য মোকাবিলায় দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘ই-বর্জ্য রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করা।  

আরও পড়ুন

×