হিটু শেখের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় পরিবার
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৮:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
মাগুরার আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে এক বছর আগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
শিশুটির বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়ন এলাকায়। গত রোববার এলাকায় গিয়ে শিশুটির মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি সমকালকে বলেন, ‘আমাদের আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই। একটা বছর আমরা কীভাবে আছি কেউ দেখতে আসেনি। গত বছর আমার সন্তানটা মারা যাওয়ায় অনেকে এসেছিল। অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এখন আমি কারও কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমরা খুব গরিব। আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। আমি তাঁকে সামলাব, নাকি রায়ের জন্য আইন-আদালতে ঘোরাঘুরি করব। কেউ আমাদের পাশে নেই। তাই আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছি।’
শিশুটির মা আরও বলেন, ‘হিটু শেখের ফাঁসির জন্য আমাদের আর কত অপেক্ষা করতে হবে জানি না।’
সব্দালপুর ইউনিয়ন এলাকার ভুক্তভোগী শিশুটি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এক স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সে গত বছরের ৫ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর তাকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সর্বশেষ রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হল– শিশুটির স্বজন সজীব শেখ, সজীবের বড় ভাই রাতুল শেখ, সজীব শেখের বাবা হিটু শেখ ও সজীবের মা জাহেদা খাতুন। প্রধান আসামি হিটু শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত বছরের ১৭ এপ্রিল মামলার নথি বিচারের জন্য মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে একই বছরের ১৭ মে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্য তিন আসামিকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল রায় সমকালকে বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হিটু শেখের পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত এ আপিল নিষ্পত্তি হয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর হবে।’
মাগুরা জেলা গণকমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু বলেন, ‘শিশুটিকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যা মামলার আসামির ফাঁসির রায় এখনও কার্যকর হয়নি। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়। এর উদাহরণ সম্প্রতি ঢাকার পল্লবীর শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা। এ ধরনের শিশু নির্যাতন প্রায়ই ঘটছে। আমরা চাই হিটু শেখের দ্রুত ফাঁসি হোক। এটা হলে সারাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।’
- বিষয় :
- ধর্ষণ
