নাসীরুদ্দীনকে ডিম নিক্ষেপ, অস্ত্র নিয়ে মবের অভিযোগ বিএনপির
ঝিনাইদহে গতকাল শুক্রবার মারামারির সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষের একজন আগ্নেয়াস্ত্র দেখান বলে অভিযোগ উঠেছে -ভিডিও থেকে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৯:২১ | আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ | ১২:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঝিনাইদহে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের আট নেতার নামে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেছে এনসিপি।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরতেও দেখা গেছে। আরেক যুবককে অস্ত্রটি লুকিয়ে ফেলতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, দুই যুবকের একজনের নাম আশিক, আরেকজনের নাম সিয়াম উদ্দিন। দুজনই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুসারী। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা জানান, সিয়াম উদ্দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলার আগের কমিটিতে ছিলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ, জুমার নামাজের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয়।
ছাত্রদল বলছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তবে এনসিপি দাবি করেছে, সেটি আগ্নেয়াস্ত্র নয়, লাঠি ছিল। পরে সেটি ওই যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
ঝিনাইদহ পুরাতন ডিসি কোর্ট মসজিদ এলাকায় ওই হামলার ঘটনার পর বেলা ৩টার দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা সদর থানায় গিয়ে অবস্থান নেন। দীর্ঘক্ষণ থানায় অবস্থানের একপর্যায়ে নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এস এম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন, শাহেদ আহম্মেদসহ ছাত্রদলের আট নেতার নামে মামলা করা হয়। পাশাপাশি মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী এনসিপি নেতা তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা।
মামলা করার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা থানা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। তারা কয়েকটি মিছিল নিয়ে থানা চত্বরে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। তখন এনসিপি নেতাকর্মীরা সদর থানার ভেতরে চলে যান। পরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ অন্য নেতাকর্মীরা থানা চত্বরে এসে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর পুলিশ পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্য নেতাকর্মীদের থানা থেকে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়া হয়।
দুপুরের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইবি ছাত্রদলের নেতা শাহেদ আহম্মেদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাথে কথা বলতে যান। এক পর্যায়ে শাহেদ আহম্মেদের পেছন দিক থেকে কিছু যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় কর্মী আহত হন। এ ঘটনার পর এনসিপি নেতারা বিক্ষোভ করেন।
পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ছাত্রদলের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে কারও কাও হাতে লাঠিসোটা ছিল। মিছিলটি ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।’
ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহ সফরে এলে আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে আলাপ করতে যাই। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম ছুড়ে মারে। মারামারি বা ডিম নিক্ষেপের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ গতকাল সমকালেকে বলেন, ‘আমি মহেশপুরে অবস্থান করছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’
সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে আটজনের নাম উল্লেখ করে শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার নিন্দা করেছে জামায়াত।
- বিষয় :
- বিএনপি
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ডিম নিক্ষেপ
- ঝিনাইদহ
