ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

মহাসড়ক সংস্কার নিয়ে ক্ষোভে স্থানীয়রা

ওভারটেকিংয়েই ঝড়ল একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচ প্রাণ

ওভারটেকিংয়েই ঝড়ল একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচ প্রাণ
×

ছবি: সমকাল

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ১৮:৪০

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মহাসড়ক সংস্কারকাজের ত্রুটি নিয়ে ক্ষোভে ফুসছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, সড়কের মাঝখান উঁচু ও দুই পাশ নিচু রেখে সংস্কারকাজ করায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বেপরোয়া ওভারটেকিং যোগ হয়ে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা বাজার এলাকায় যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস ও একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে মাদারীপুরের একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন।

নিহতরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মোল্যা (৬২) ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম (৫৫) এবং ভাই আলমগীর হোসেন মোল্যা (৫৮) ও তাঁর স্ত্রী খুরশিদ বেগম (৪৮)। এছাড়া নিহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক কাওছার মাতুব্বর (২৫)। সে মাদারীপুর সদরের সৈদারবালী এলাকার শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ, নগরকান্দা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অ্যাম্বুলেন্স কেটে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহগুলো ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আলমগীর মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে ব্রেইনের সমস্যায় ভুগছিলেন। রোববার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সে রওনা দেন। পথে শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী বিআরটিসির একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সবাই নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করেন। স্থানীয়দের অনেকেই দাবি করেন, মহাসড়ক সংস্কারের ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা আরও ভয়াবহ হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি সংস্কার করা সড়কের মাঝখানে উঁচু ঢালাই দেওয়া হলেও দুই পাশ সমান করা হয়নি। এতে ছোট যানবাহন মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘রাস্তার দুই পাশে ছয় ফুট করে কাজ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। মাঝ বরাবর ঢালাই দেওয়ায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে। ছোট যানবাহন মাঝখান দিয়ে চলাচল করে, আর বড় গাড়ি সাইড দিতে গেলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনার সময় সড়কের মাঝখান দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান চলছিল। বিআরটিসির বাসটি ভ্যানটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ১০০ গজ দূরে ছিটকে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্সটির ধ্বংসাবশেষ। চারদিকে ছড়িয়ে ছিল চিকিৎসার কাগজপত্র, সিটিস্ক্যান রিপোর্ট ও ওষুধপত্র।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘মহাসড়কের এই অংশে মাঝখান উঁচু আর দুই পাশ নিচু। একটি মহাসড়ক এভাবে নির্মাণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। যানবাহন সাইড দিতে গেলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত পুরো অংশ সমান উচ্চতায় আনতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে নগরকান্দা উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার রেজওয়ান খান নাফিজ বলেন, ‘আমরা সড়ক বিভাগের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়কের এই অসামঞ্জস্য দ্রুত নিরসনের জন্য সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ জানাবো।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার বলেন, ‘মহাসড়কের দুই পাশের নিচু অংশ দ্রুত সমান উচ্চতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এর জন্য বরাদ্দ না থাকায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কাজটি সম্পন্ন করা হবে।’

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ‘ঘটনার পর খবর পেয়ে ছুটে আসি এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। ঘটনাস্থলেই সকলে মারা যান। পরে গাড়িটির ভেতর থেকে কেটে মরদেহগুলো বের করে আনে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।’

আরও পড়ুন

×