ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সিলেট বিভাগে মে মাসে সড়কে ঝরলো ৫১ প্রাণ

সিলেট বিভাগে মে মাসে সড়কে ঝরলো ৫১ প্রাণ
×

প্রতীকী ছবি

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ১৯:১৮

সিলেট বিভাগে গত মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত মে মাসে পুরো বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজ শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ৬৫ জন। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরমধ্যে ২০ জন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী রয়েছেন। এছাড়া মে মাসে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যা চলতি বছরের মধ্যে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সিলেট জেলায়। আর তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও মৃত্যু হয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। মে মাসে সিলেট জেলায় ১৭ দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হন। সুনামগঞ্জ জেলায় ১৩ দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন। এছাড়া হবিগঞ্জ জেলায় সাতটি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩ জন আহত এবং মৌলভীবাজার জেলায় ৫টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত ৫১ জনের মধ্যে ৩৯ জন পুরুষ ৬ জন নারী ও ৬ জন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন মোটরসাইকেল আরোহী ছাড়াও সিএনজি ও টমটমের ১১ জন যাত্রী ও চালক, অন্যান্য যানবাহনের ১৮ জন চালক এবং ৯ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। মূলত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে যাওয়া, মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং অবকাঠামোগত কারণে এসব প্রাণহানি ঘটেছে।

নিসচা সিলেট বিভাগীয় কমিটি জানিয়েছে, মে মাসে দুর্ঘটনা বেশি বাড়ার পেছনে চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, নিয়ম না মেনে ওভারটেকিং, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের অসচেতনতা এবং সড়কের নকশাগত ত্রুটি প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে সিলেট বিভাগে ১৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

×