শাশুড়িকে খুন করতে দেখে ফেলায় দুই শিশুকে হত্যা: আদালতে সৎ বাবার জবানবন্দি
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম হাওলাদার। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ১৯:১৩
খুলনায় গালিগালাজ করায় রাগের মাথায় শাশুড়িকে এবং বিষয়টি দেখে ফেলায় একে একে দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁদের সৎ বাবা রফিকুল ইসলাম হাওলাদার ওরফে রফিক। শনিবার দুপুরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি এই তথ্য জানান। খুলনা মহানগর হাকিম মো. ফরিদুজ্জামান তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে রফিককে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৩০ মে বিকেলে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুল আমান মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বেবী বেগম (৬২), শামীম (১৩) ও মুস্তাকিম (৪) নামে তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মা বেবী বেগম ও দুই সন্তানকে নিয়ে সোনাডাঙ্গার ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ফাতেমা বেগম মেরী নামের এক নারী।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশু দুটির প্রথম বাবা মাসুম ব্যাপারী বাদী হয়ে সৎ বাবা রফিকুল হাওলাদারকে আসামি করে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। গত শুক্রবার সকালে বরিশালের কাশিপুর এলাকা থেকে রফিককে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬। রাতেই তাঁকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ মন্ডল জানান, চার বছর আগে প্রথম স্বামী মাসুম ব্যাপারীর সঙ্গে ডিভোর্স হয় ফাতেমা বেগম মেরীর। প্রথম স্বামীর দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে সোনাডাঙ্গার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন মেরী। কিছুদিন পর মেরী নগরীর মানিকতলা এলাকার বাসিন্দা ট্রাকচালক রফিককে বিয়ে করেন। কিন্তু তাঁর বিয়ে মা ও বড় সন্তান মেনে নিতে পারেননি। মেরীর দ্বিতীয় স্বামী রফিক মাঝে মাঝে ওই বাড়িতে যেতেন। এ নিয়ে বেবী বেগম ও বড় সন্তান শামীমের সঙ্গে প্রায় ঝগড়া হতো মেরী ও রফিকের। গত বৃহস্পতিবার রাতে রফিক ওই বাড়িতে গেলে আবারও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাত ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান রফিক।
জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রফিক আবার ওই বাড়িতে ফিরে আসেন। সকালে ঘরের দরজা খোলা ছিল। রফিক ঘরে ঢুকতে গেলে শাশুড়ি বেবী বেগম তাঁকে দেখে গালিগালাজ করতে থাকেন। রফিক গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে বেবী বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। বিষয়টি দেখে ফেলে শিশু শামীম। তখন তাকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয়। শামীমের চিৎকার শুনে মুস্তাকিম ঘুম থেকে জেগে হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলে। ট্রাংকের ওপর থাকা পায়জামা দিয়ে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন রফিক। এরপর শাশুড়ির মরদেহ খাটের নিচে, শামীমের মরদেহ ট্রাংকের ওপর ও মুস্তাকিমের মরদেহ ওয়ারড্রবের একটি ড্রয়ারের মধ্যে লুকিয়ে রেখে দরজায় তালা দিয়ে দেন তিনি।
- বিষয় :
- খুলনা
- জবানবন্দি
- শিশু হত্যা
