ডুবে ডুবে ধান না কাটলে সারা বছর খাবো কি!
ছবি: সমকাল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১৫:৩৩
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান বুকসমান পানিতে নেমে সংগ্রহ করছিলেন ঠাকুরগাঁও সদরের ভেলাজান হীরামন পাড়া গ্রামের টীয়াবুল রায়। পেশায় এই দিনমজুর বলেন, ‘ডুবে ডুবে ধান না কাটলে সারা বছর খাবো কী!’ কারণ এই ধান ঘরে তুলতে না পারলে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকব। ১৪ কাটা বোরো ধান আবাদ করেছি, ধান পেকে গেছে, সে পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে।
সোমবার সকালে সদর উপজেলার ভেলাজান, রহিমানপুরের বিল নড়লই ও রায়পুরের বেংরোল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানিতে ডুবে আছে। কৃষকরা মোটা কাপড় পরে জোঁকের আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। অনেকে খালি পায়ে নেমে ধান কাটতে গিয়ে শরীরজুড়ে জোঁকের ক্ষত নিয়ে ফিরছেন।
পাশের গ্রামের সোলেমান আলী বলেন, দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি যা পানির নিচে ডুবে গেছে। এখন নিজে কী খাব আর ধার দেনা কেমনে শোধ করব সেই চিন্তা করছি। ধানের উপরে পানি তারপরে প্রচুর জোঁক। শ্রমিকরা ভয়ে ধান কাটতে চায় না।
একই উপজেলার দক্ষিণ ভেলাজানের কৃষক আবু রায়হান বলেন, এবারের মত আবহাওয়া কোনদিন দেখিনি। বৈশাখ মাস থেকেই যেন বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সরকার যদি আমাদের মত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দিকে না দেখে তাহলে আমরা তার বাঁচবো না।
ঠাকুরগাঁওয়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে শত শত বিঘা জমির পাকা ও আঁধা পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অতিরিক্ত পানির কারণে ধান সংগ্রহ করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বোরো ধান চাষিরা। ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের তালিকার পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিভাগ। ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাসে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে এবারই প্রথম বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকেই প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ে। তার পরেও গত তিনদিন থেকে শুরু হয়েছে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত। যে জমিতে আরও বেশি পানি সেখানকার ধান কেটে ভাসমান হাঁড়ি, পাতিলে সংগ্রহ করছেন অনেকে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জেলার নদীসংলগ্ন বিল ও নিচু এলাকার শত শত বিঘা জমির পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক কৃষক কাটা ধানও শুকাতে পারছেন না। জেলায় সাত উপজেলায় প্রায় ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরের ধান কাটা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত পানির কারণে বাকি জমির ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, নদীর ধারে বিলে ও নিচু এলাকার বোরো ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করছি সেই সাথে ডুবে যাওয়া ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঁটা ধানও শুকাতে পারছেন না চাষিরা। ডুবে যাওয়া ধান সংগ্রহ করতে পারলে কিছুটা হলেও ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন।
