ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চরের অ্যাম্বুলেন্স বাঁশ, তক্তা আর মানুষের কাঁধ

চরের অ্যাম্বুলেন্স বাঁশ, তক্তা আর মানুষের কাঁধ
×

সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ফকিরপাড়া চরে জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নেই কোনো যানবাহন। বাধ্য হয়ে কাঠের তক্তায় বাঁশ বেধে কাঁধে করে রোগী বহন করতে হয়।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১৯:০৮

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ফকিরপাড়া চরের বাসিন্দা মোহাম্মদ বাক্কা দেওয়ানী। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো যানবাহন ছিল না। শেষ পর্যন্ত কাঠের তক্তার ওপর শুইয়ে, রশি দিয়ে ভার বেঁধে কয়েক কিলোমিটার পথ কাঁধে করে তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এ দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। 

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার বিকেলে। রোববার বাক্কা দেওয়ানীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের বাড়ি থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। বর্ষার পানিতে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ডুবে থাকলেও নৌকা চলার মতো পানি নেই। আবার কাঁচা রাস্তাগুলো এতটাই ভাঙাচোরা যে রিকশা-ভ্যানও চলতে পারে না। চরের একমাত্র বাহন গরুর গাড়িও এখন অচল। তাই বাধ্য হয়েই কাঁধে করে রোগী বহন করতে হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার এত বছর পরও চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় তেমন পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ–সব ক্ষেত্রেই তারা বঞ্চিত। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নেই কোনো দ্রুত যানবাহন বা বিকল্প ব্যবস্থা। ফলে প্রতিবছর বর্ষা ও খরার মৌসুমে একই দুর্ভোগে পড়তে হয় চরবাসীকে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে ভীষণ ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

শ্যাম রায়ের পাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত স্কুলে আসতে চায় না।’

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, ‘তিস্তার চরের প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ একই দুর্ভোগে আছেন। প্রতিবছর রাস্তাঘাট মেরামত করতে হয়। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় রোগী ও বয়স্ক মানুষদের।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, ‘চরের রাস্তাঘাট প্রতিবছর সংস্কার করতে হয়। দুর্গম এলাকায় স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা না হলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে না।’ 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেন, ‘চরাঞ্চলে রাস্তা না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তাই বিকল্প উপায়ে রোগীদের হাসপাতালে আনতে হয়।’
 

আরও পড়ুন

×