ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ
×

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১৯:১৪ | আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ | ১৯:১৮

কুমিল্লার হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এমএসআর খাতে বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতি মেরামতের নামে কাজ না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৬ এপ্রিল ৩ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকার বিল উত্তোলনের কাগজে তাড়াহুড়ো করে স্বাক্ষর করে টিএইচও ডা. নুসরাত জাহান। তিনি অপর ২ জনকে দিয়েও স্বাক্ষর করিয়ে নেন। কিন্তু বাস্তবে যন্ত্রপাতির কোনো মেরামত কাজই হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। পরে ৭ এপ্রিল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মিথিল এন্টারপ্রাইজ’-কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

দরপত্রে দুটি অটোক্ল্যাভ মেশিন মেরামতের জন্য ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা, একটি মাইক্রোস্কোপ মেরামতে ২৪ হাজার টাকা, দুটি ইসিজি মেশিন মেরামতে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, চারটি এসি মেরামতে ১ লাখ ২৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং একটি হাইড্রোলিক মেশিন মেরামতে ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এসব যন্ত্রপাতির কোনটিই মেরামত করা হয়নি। অথচ গত ১৬ এপ্রিল বিল উত্তোলনের কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পরবর্তীতে বিল উত্তোলন করা হয়। কারণ এর তিন দিন পর, ১৯ এপ্রিল তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বদলি হয়ে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিবেন। 

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্ডিওগ্রাফার মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গত দুই-তিন মাসের মধ্যে ইসিজি মেশিনের কোনো মেরামত হয়নি। বিল উত্তোলনের বিষয়টি আমি জানি না।’

জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অটোক্ল্যাভ মেশিনের সমস্যা ছিল। বিষয়টি অফিসকে জানিয়েছিলাম। পরে ঠিকাদারের মাধ্যমে শুধু একটি কয়েল ও একটি জ্যাক দেওয়া হয়েছে।’

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মনিরা আক্তার বলেন, ‘ওটির কিছু যন্ত্রপাতি মেরামতের প্রয়োজন ছিল। আমি বিষয়টি টিএইচও ডা. নুসরাত জাহান-কে জানিয়েছিলাম। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে কোনো কিছুই মেরামত হয়নি। অটোক্ল্যাভ কিংবা এসি ও হাড্রোলিক ওটি টেবিল কোনটিই মেরামত করা হয়নি। এসব কাজের নামে বিল উত্তোলন হয়েছে কি না আমি এসব জানি না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিথিল এন্টারপ্রাইজের একাধিক কর্মকর্তাদের ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো খুদেবার্তার জবাবও দেননি তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (বর্তমানে মুরাদনগরে কর্মরত) ডা. নুসরাত জাহান বলেন, ‘আমি একটি মিটিংয়ে আছি। ঈদের পরে কাজ হবে। পরে কল দিচ্ছি আপনাকে।’

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ও হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (এনেস্থেসিয়া) ডা. প্রণয় কুমার দেবনাথ বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি কিছুদিন হয়েছে। তৎকালীন টিএইচও ডা. নুসরাত জাহান আমার কাছ থেকে আগেই সব কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নিয়েছেন। কাজ হয়েছে কি না আমি জানি না। আমাকে চাপ দিয়ে সই নেওয়া হয়েছে।’

কমিটির সদস্য ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘হাসপাতালের যন্ত্রপাতি বিষয়ে আমার তেমন ধারণা নেই। কমিটিতে না রাখতে ইউএনওকে বলেছিলাম। পরে ডা. নুসরাত জাহান বদলির আগে সই করতে বললে আমি সই করি। কাজ না করেই বিল উত্তোলনের বিষয়টি জানতাম না।’

এ ঘটনায় হাসপাতালের বিভিন্ন ডাক্তার ও স্টাফদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×