পশুর হাটে ‘দ্বিগুণ হাসিল’ আদায়
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৭:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
নাটোরের বড়াইগ্রামের কয়েকটি কোরবানির পশুর হাটে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার মৌখাড়া, জোনাইল, আহম্মেদপুর, বাহিমালী, ধানাইদহ ও রাজাপুর হাটে গরু-ছাগল বিক্রিতে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে নির্ধারিত হারের প্রায় দ্বিগুণ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া রসিদে হাসিলের পরিমাণ উল্লেখ না করায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
উপজেলার মৌখাড়া হাটে পৌরসভার টাঙানো তালিকা অনুযায়ী, গরু-মহিষ বিক্রিতে ছোট-বড়ভেদে ক্রেতার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত হার ১০০ থেকে ২৫০ টাকা। বাস্তবে আদায় করা হচ্ছে অনেক বেশি।
মৌখাড়া হাটে হাসিল আদায়ের দায়িত্বে থাকা তাইজুল ইসলাম জানান, প্রতি ছাগলে ক্রেতার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ও বিক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। গরু-মহিষের ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ৮০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাঁশের সারিতে গরু বাঁধার জন্য আলাদা করে আরও ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
জোনাইলের বোর্ণি এলাকার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘১৭ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনেছি। হাসিল দিতে হয়েছে ৫০০ টাকা। আবার বিক্রেতার কাছ থেকেও ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন থাকলেও নজরদারি নেই।’
মৌখাড়া হাটে গরু বিক্রি করতে আসা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় গরু বিক্রি করেছি। আমাকে ২০০ টাকা হাসিল দিতে হয়েছে। আবার গরু বাঁধার জন্যও ১০০ টাকা নিয়েছে। আগে শুধু ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতো, এখন বিক্রেতাকেও দিতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে মৌখাড়া হাটের ইজারাদার আব্দুল হান্নান সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, ‘ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। রশিদে টাকার অঙ্ক লেখা হয় না, কারণ অন্য হাটেও এভাবে লেখা হয় না।’
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। প্রতিটি হাটে তদারকি করা হচ্ছে। তবে কোথাও অনিয়মের তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- পশুর হাট
