ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চার চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে শ্রমিকরা

চার চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে শ্রমিকরা
×

সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ না করায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মিরতিংগা চা বাগানের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শ্রমিকদের অবস্থান সমকাল

 মাধবপুর (হবিগঞ্জ) ও কমলগঞ্জ   (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৭:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

আর্থিক সংকটে চারটি চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিকরা। বকেয়া মজুরি, রেশন, উৎসব বোনাসসহ ৭ দফা দাবিতে গতকাল সোমবার সকাল থেকে কাজে যাননি শ্রমিকরা। এতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি ও লালচান এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মিরতিংগা চা বাগানের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। চারটি চা বাগানই দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হয়।  

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত সপ্তাহে নিয়মিত সাপ্তাহিক তলবি (মজুরি) দেওয়া হয়নি ফলে ৪ বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা জানান, গত ২১ মে বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করার কথা থাকলেও দেউন্দি কোম্পানির ৪টি বাগানে কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে মজুরি পরিশোধ বন্ধ করে দেন। 
বাগান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের কারণে তারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। ২০১৮ সালের পর থেকে দেউন্দি কোম্পানির আওতাধীন চারটি বাগান ব্যাংক ঋণ পায়নি। নোয়াপাড়া চা বাগানে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে প্রায় তিন বছর কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ ছাড়া লালচান চা বাগানের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবছর লোকসান গুনতে হচ্ছে বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।
গত বৃহস্পতিবার দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেডের কমলগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগান কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ প্রদান না করার কারণে ২১ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে শ্রমিকদের তলব (সাপ্তাহিক মজুরি) বন্ধ থাকছে। ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ওপর শ্রমিকদের পরবর্তী তলব দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। একই সঙ্গে যতদিন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের তলব দিতে পারবে না ততদিন পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরি বহন বাগান কর্তৃপক্ষ করবে না। তবে বাগান কর্তৃপক্ষ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। শ্রমিকদের বেতন দাবিতে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, ২০২২ সাল থেকে মালিকপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। 
নোয়াপাড়া চা বাগানের ইউপি সদস্য বাবুল রেলী বলেন, চারটি বাগানেই দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছে। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পাচ্ছেন না। তাই সোমবার তারা কর্মবিরতি পালন করেছে। তিনি জানান, খবর পেয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে আপাতত সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেউন্দ টি কোম্পানি লিমিটেডের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) বলেন, এই বাগানে শ্রমিকদের কোনো বকেয়া নেই। ব্যাংক থেকে গত বৃহস্পতিবার টাকা উত্তোলন করা যায়নি। এ কারণে এই সপ্তাহে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরির অর্ধেক পরিশোধ দিতে চাইলে তারা সেটি নিতে চায়নি এবং আন্দোলন শুরু করেছে। 
নোয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার সোহাগ মাহমুদ বলেন, টানা লোকসানের কারণে চারটি বাগান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সংকটের কারণে আমরা আংশিক বেতন দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম, কিন্তু শ্রমিকরা তা গ্রহণ করেননি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত সংকট কেটে যাবে। 
 

আরও পড়ুন

×