ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের ঈদযাত্রায় আবারও যমুনা সেতুকেন্দ্রিক ভোগান্তি, ধীরগতি

‘সম্প্রসারণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান নেই’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

উত্তরাঞ্চলের ঈদযাত্রায় আবারও যমুনা সেতুকেন্দ্রিক ভোগান্তি, ধীরগতি
×

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম দিকে সায়দাবাদ গোল চত্বর এলাকায় জেলা পুলিশের ধারণ করা ড্রোন ছবি। ছবি : সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ০২:৩৯

ঈদুল আজহা সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আবারও যমুনা সেতুকেন্দ্রিক যানজটে আটকে পড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে সেতুর পশ্চিম পাড়ে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও টোল ব্যবস্থাপনার কারণে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এতে উত্তরাঞ্চল ও ঢাকাগামী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চার লেনের মহাসড়ক দিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক যানবাহন যমুনা সেতুর মুখে এসে কার্যত দুই লেনে সীমিত হয়ে পড়ায় চাপ বাড়লেই যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ঈদযাত্রার শেষ সময়ে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সেই সংকটকে আরও প্রকট করে তোলে।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। সেতুর পূর্বপাড়ে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঢাকামুখী লেনে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর প্রভাব দ্রুত পশ্চিম পাড়েও পড়ে এবং কোথাও কোথাও যানবাহন দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে থাকে। তবে রাত সাড়ে নয়টার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, চার লেন দিয়ে গাড়ি সেতুর দিকে এলেও সেতুর ওপর গিয়ে তা দুই লেনে নেমে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধীরগতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু সময় ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছিল, যার প্রভাব দুই পাশেই পড়ে।

তবে হাটিকুমরুল এলাকায় বড় ধরনের যানজট হয়নি বলে দাবি করেছেন হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভারের উত্তরবঙ্গগামী লেন খুলে দেওয়ার কারণে যান চলাচল এখন অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। দিনভর মহাসড়কে যান চলাচল সচল ছিল।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের যমুনা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন আহমেদ জানান, চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হয়ে সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় মঙ্গলবার দিনভর থেমে থেমে যানবাহনের চাপ ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কিছু সময়ের জন্য উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়। মূলত উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ঈদেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং প্রয়োজন হলে বুধবারও এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা হতে পারে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যমুনা সেতুর বর্তমান কাঠামো দিয়ে বাড়তি যানবাহনের চাপ দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (SASEC)-২ প্রকল্পের পরিচালক ড. ওয়ালীউর রহমান বলেন, যমুনা সেতুর সম্প্রসারণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের সমস্যা থেকেই যাবে। সেতুর দুই পাশের মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়লেও সেতুর সক্ষমতা সেই হারে বাড়েনি।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেল সেতু চালু হওয়ার পর যমুনা সেতুর উত্তর পাশে প্রায় সাড়ে তিন মিটার জায়গা ফাঁকা হয়েছে। সেই অংশ ব্যবহার করে যান চলাচলের উভয় লেন আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্প্রসারণ প্রকল্পের আন্তর্জাতিক দরপত্র ও অনুমোদনের কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের প্রশ্ন, প্রতিবছর ঈদ এলেই কেন একই ধরনের ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি ঘটে। কখনো সেতুর পশ্চিম পাড়ে, কখনো পূর্ব পাড়ে, আবার কখনো সেতুর ওপরই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া যমুনা সেতুকেন্দ্রিক এ দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

×