ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রায়গঞ্জে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঈদের আনন্দে বিষাদের ছায়া

রায়গঞ্জে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঈদের আনন্দে বিষাদের ছায়া
×

ছবি: সমকাল

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ | ১৩:৫৫ | আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ | ১৬:০৯

ঈদুল আজহার আনন্দে মুখর থাকার কথা ছিল সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষকদের ঘর। কিন্তু টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট ও ধানের কম দামে এখন তাদের জীবনে নেমে এসেছে হতাশা আর বিষাদের ছায়া। মাঠের পাকা ধান ঘরে তুলতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক।

গত কয়েক দিনের টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণে উপজেলার নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান এখন কোমরসমান পানির নিচে। দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় কোথাও ধান গাছ পচতে শুরু করেছে, আবার কোথাও ধানে অঙ্কুর গজিয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের স্বপ্নের ফসল।

ঈদের মৌসুম ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মাঠে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না শ্রমিকরা। এতে এলাকায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। সুযোগ বুঝে শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে কয়েকগুণ।

উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন, ‘আগে যে শ্রমিকের মজুরি ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে তিন বেলা খাবারও দিতে হচ্ছে। এত খরচ করে ধান কাটলে লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠে না।’

অন্যদিকে বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের বাড়তি মজুরি ও পরিবহন ব্যয় মিটিয়ে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোমর পানিতে নেমে ধান কাটছেন। আবার অনেকেই অর্থাভাবে পাকা ধান মাঠেই ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এনজিও ঋণ, ধার-দেনা ও মহাজনি সুদের টাকায় তারা বোরো চাষ করেছিলেন। আশা ছিল ধান বিক্রি করে ঋণ শোধের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করবেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও বাজারের মন্দা পরিস্থিতিতে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, কৃষি প্রণোদনা ও বাজার মনিটরিং নিশ্চিত না করা হলে অনেক কৃষক ঋণের বোঝায় দেউলিয়া হয়ে পড়বেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে কিছু নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, বিষয়টি আমরা মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আমাদের মাঠকর্মীরা কাজ করছেন। প্রতিবেদন হাতে পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

আরও পড়ুন

×