ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফেনীতে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ফেললেন ব্যবসায়ী

ফেনীতে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ফেললেন ব্যবসায়ী
×

ছবি: সমকাল

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬ | ২১:৫৫

ফেনীতে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। উপযুক্ত দাম পাওয়া দূরের কথা, চামড়া কেনার মতো কোনো বেপারি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নদীতে ফেলে দিয়েছেন অনেক ক্রেতা। আবার অনেকে মাটিচাপা কিংবা স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসায় দান করে দিয়েছেন।

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের কাটাখালি নদীতে বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে দেয়ার কারণে নদী ও আশপাশের পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের আশায় মারিজপুর গ্রামের খুরশিদ ও দিদারুল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শতাধিক গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। আশা ছিল, পাইকারদের কাছে এসব চামড়া বিক্রি করে কিছুটা লাভবান হবেন। কিন্তু রাত জেগে বসে থেকেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ীর দেখা না পেয়ে চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দেন তারা।

খুরশিদ আলম বলেন, ‘নগদ টাকা দিয়ে চামড়াগুলো কিনেছিলাম। বিক্রির জন্য পুরো রাত জেগে বসে ছিলাম, কিন্তু কোনো বেপারি আসেনি। একে তো তীব্র গরম, তার ওপর সময়মতো লবণ দিতে না পারায় চামড়াগুলোতে পচন ধরেছে। যাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, তাদের ফোনও বন্ধ পাচ্ছি। কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দিয়েছি।’

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চামড়া নদীতে ফেলে দেয়ার ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

এ ঘটনায় দাগনভূঞা উপজেলা ভূমি অফিস সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদুল আলম পশুর চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়া ব্যক্তিকে নিয়ে বৈঠকে বসলে ওই ক্রেতা বিষয়টিকে ভুল বলে স্বীকার করেন। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলে জানান।

এদিকে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবারও ফেনীর কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়নি। মাঠপর্যায়ে মৌসুমি খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা দামের বড় গরুর চামড়া কিনেছেন মাত্র ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। মাঝারি ও ছোট চামড়া কিনেছেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। আর ছাগল ও ভেড়ার চামড়া কিনেছেন ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। এছাড়া কিছু এলাকায় কোনো ক্রেতার দেখাই মেলেনি। নিরুপায় হয়ে সিংহভাগ কোরবানিদাতা তাদের পশুর চামড়া মাটিচাপা কিংবা স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসায় দান করে দিয়েছেন।

পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের বাসিন্দা সফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি করে পেয়েছি মাত্র মাত্র ১৮০ টাকা। একই ইউনিয়নের মাহবুবুল হক জানান, তার ২ লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র ২০০ টাকায়।’

সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও এমন পানির দরে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। ন্যায্য দাম না পেয়ে অনেকেই চামড়া বিক্রি না করে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

×