ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কমিটি নিয়ে টানাপোড়েন, মুখোমুখি বিএনপির দুই পক্ষ

কমিটি নিয়ে টানাপোড়েন, মুখোমুখি বিএনপির দুই পক্ষ
×

সংগৃহীত

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ২০:০৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গত রোববার সন্ধ্যায় শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় গ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মাহাবুবুর রহমান ও তাঁর সমর্থকরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের পথরোধ করে কমিটি অনুমোদনের বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাহাবুবুর রহমানকে জুতা হাতে নাজমুল করিমের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম অভিযোগ করেন, তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং তিনি রাতেই মামলা করতে নবীনগর থানায় গেলেও গ্রহণ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার পেছনে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন রয়েছে। তবে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মামলার আবেদনটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি এবং প্রস্তাবিত বাদী থানায় উপস্থিত না থাকায় মামলা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে সভাপতি পদপ্রার্থী মাহাবুবুর রহমান দাবি করেন, এক বছর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান তাঁকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অনুমোদনের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নাজমুল করিম।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হোসেন আহাম্মদের মৃত্যুর পর শূন্য পদে মাহাবুবুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে অনুমোদন পায়নি। এ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে জেনেছেন। দলীয়ভাবে অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, থানার কার্যক্রমে তিনি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেন না।

এদিকে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক কে এম মামুনুর রশিদ দাবি করেন, কমিটি অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং পুরো বিষয়টি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

×